চাঁদপুরে ৪শ একর কৃষিজমিতে ৫০টি অবৈধ ঝিল, উচ্ছেদ অভিযান

চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৫
অ- অ+

চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে প্রায় ৫০টি মাছের ঝিল তৈরি করে মাছ চাষের নামে দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্র তাদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এখানে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। এসব জমিতে আমাদের বাপ-দাদারা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছে। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, এই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা বাধা দিয়েছি। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে তারা আবারও মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নয়; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে ওই চক্র আবারও এসে একই কাজ শুরু করে।

(ঢাকা টাইমস/২২অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান হাসপাতালে ভর্তি
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ, বাতিলের দাবি পাঁচ এমপির
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর