যুবদল নেতা খুনের পর সরানো হলো মাগুরা সদর থানার ওসিকে

মাগুরায় পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগের মধ্যেই তার দায়িত্ব পরিবর্তনের এ তথ্য জানা গেল।
রবিবার রাতে মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন ওসির বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বদলি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়া।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাদের দাবি, এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও মাদকের কারবার বেড়েছে। এ ছাড়া থানায় গিয়ে ভুক্তভোগীরা আইনি সেবা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
সবশেষ গত মঙ্গলবার ভোরে মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে গুলি করে হত্যা করা হয় পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে।
এ ঘটনায় মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী হাসপাতালে গিয়ে সাকেরের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্বজনেরা সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ ধরনের সহিংসতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ অভিযোগ তুলে তার স্বজনেরা মানববন্ধনও করেছেন।
সদ্য সরিয়ে নেওয়া ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মাগুরার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মামুন ৫ আগস্টের পর ঝিনাইদহ সদর থানায় কর্মরত অবস্থায় নানান অপকর্মে লিপ্ত ছিল। পরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












