চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে ছয় মাসে কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৪৮৫ টহল, আটক ৩৪

চট্টগ্রাম ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৫
অ- অ+

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি ও জলদস্যুতা (পাইরেসি) প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গত ছয় মাসে বহিঃনোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল ও ১১২টি অভিযান পরিচালনা করেছে বাহিনীটি। এসব অভিযানে ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান, মানব পাচার, ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

সম্প্রতি ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ কোস্ট গার্ডের নজরে এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটির ক্ষেত্রে কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে ওই দুই জাহাজ থেকে কোনো মালামাল চুরি হয়নি বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, ওই দুই জাহাজের কর্তৃপক্ষ বাহিনীকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ও প্রশংসাপত্র দিয়েছে। অথচ প্রকাশিত সংবাদে ওই জাহাজ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।

অন্য জাহাজটির ক্ষেত্রে চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ডের একটি বোর্ডিং টিম পাঠানো হয়। পরে মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনো চলছে।

কোস্ট গার্ড বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী ওই জাহাজগুলোতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা। তবে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিলেন না। এটিকে জাহাজগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, জনস্বার্থ, দেশের সামুদ্রিক খাতের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। চোরাকারবারি ও ছিঁচকে চোরেরা মৎস্য আহরণের আড়ালে এবং বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ করে থাকে।

এ ধরনের অপরাধ দমনে গত রাতেও বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের সুনীল অর্থনীতি সুরক্ষায় সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে বাহিনীটির জনবল এবং প্রয়োজনীয় বোট ও সরঞ্জামের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান সাব্বির আলম সুজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে কোস্ট গার্ডে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন ও জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের এমফিল ও পিএইচডি ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট তৈরি করছেন আনসার-ভিডিপি সদস্য
হঠাৎ মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী, কাফরুলে বাসে আগুন
ফরিদপুরে পুলিশের জব্দ করা বাসে আগুন