ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশে দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
আজ রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ সংঘের্ষর ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়াবাড়ির পুকুরপাড়ে শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানে নিয়মিত টেলিভিশন চালানোয় সারা দিন দোকানের পাশের পুকুরের ঘাটলায় মানুষের জটলা জমে থাকে। পাশ দিয়ে চলাচলকারী গ্রামের নারী ও মেয়েদের উদ্দেশে অনেকে বিভিন্ন অপ্রীতিকর মন্তব্য করে।
পাশাপাশি গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির মো. জোবায়েরের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের মইধ্যের বাড়ির মো. জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধের সঙ্গে চায়ের দোকান উচ্ছেদের প্রসঙ্গ নতুন করে যুক্ত হয়।
মিন্দান আলী বাড়ির লোকজন গ্রামের ওই চায়ের দোকান উচ্ছেদের পক্ষে। সম্প্রতি গ্রামের একটি সালিশে দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেন মইধ্যের বাড়ির মো. জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আজ সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উভয়পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বেলা একটা পর্যন্ত চলা সংঘষে টেঁটাবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েক দিন আগে এক সালিশে দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানেনি। এমন উত্তেজনার মধ্যে তারা প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































