‘তথ্য ফাঁস করলে ইনস্পেক্টরকে ঝুলিয়ে দেব’, কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুলের বক্তব্য ভাইরাল

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স ও ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় সভায় দেওয়া তার এই বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে পুলিশ বাহিনী ও সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ পদস্থ একজন পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের কান্ডজ্ঞ্যানহীন বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় তাকে ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায় যে, কোনো পুলিশ সদস্য (দারোগা বা ইনস্পেক্টর) যদি সাধারণ মানুষের দেওয়া কোনো গোপন তথ্য ফাঁস করে, তবে তিনি নিজে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গাছের সাথে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মারবেন। তিনি বলেন, “মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি” উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো উসকানিমূলক মন্তব্য করেন এবং তাদের গোপন তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতবিনিময় সভাটি হয়েছিল গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়েনি।
এদিকে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানের সুধী সমাবেশে ক্রিমিনালদের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার গোপনয়িতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন।
গতকাল রাতে এসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে বলা উল্লেখ করা হয়, পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য ও কর্মকতার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্চনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যে কোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিৎ, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগনের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উদ্ধেগ ও মতামত প্রকাশ করেন।
এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করে পুলিশ পেশাদারিত্ব ধৈর্য ও দায়িত্বশলিতার সঙ্গে জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগনের আস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষপটে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, পেশাগত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ।
পুলিশ এসোসিয়েশন বিশ্বাস করে যে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবগেহলার অভিযোগ পেলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নিস্পত্তি হওয়া উচিৎ। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বেত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।
কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা উন্নত করতে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার বিকল্প নেই। জনগণ সহযোগিতা না করলে কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না। কিন্তু জনগণের বড় অভিযোগ আমাদের অফিসারদের দিকে। তাদের আশ্বস্ত করতে কিছু কথা বলেছি। সেগুলোকে কেটে অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছি, তথ্য ফাঁস করলে কেউ নিস্তার পাবে না। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































