রোহিঙ্গাদের জন্য আরও জমি চাইল জাতিসংঘ, প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাতিসংঘে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। ফলে এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। পরে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে রয়েছে।(ঢাকাটাইমস/২০ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































