অচিরেই হাতিরঝিলকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করব: মীর শাহে আলম

অচিরেই হাতিরঝিলকে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, হাতিরঝিল নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এর অবস্থা এমন হয়েছে যে মানুষের বিনোদনের জন্য সেখানে যাওয়ার পরিবেশ নেই। অচিরেই এটিকে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করব। সেখানে লাইটিং, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
শনিবার সকালে হাতিরঝিলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
এসময় হাতিরঝিলের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, হাতিরঝিলে ছিনতাইয়ের অভিযোগ আছে। এখানে আসা মানুষের নিরাপত্তায় রাজউকের পক্ষ থেকে আনসার নিয়োগ করা হবে।
হাতিরঝিল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে দুপুরে মিরপুর মুসলিম বাজার খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন , ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫৬টি খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে ছোট-বড় সব খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে খালের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং খালের সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ২৭ ও ২৯টি খাল উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ ও সচল রাখা না গেলে ভবিষ্যতে এই নগরী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা খাল পরিষ্কার করছি, কিন্তু অনেকেই আবার খালে ময়লা ফেলছেন। বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। সেখানে বর্জ্য ফেললে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। এরপরও কেউ খাল বা খালের পাশে ময়লা ফেললে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জরিমানার মুখোমুখি না হয়ে সবাই যেন প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজধানীর কালশী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৮০ ফুট খাল থেকে এরইমধ্যে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনার কারণেই খালগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, খাল ও জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শুধু পরিষ্কার করলেই হবে না, এই পরিচ্ছন্নতা যেন টেকসই হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
মীর শাহে আলম বলেন, খালগুলোতে যাতে নতুন করে বর্জ্য না জমে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ উদ্যোগ সফল হবে না। তাই সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































