স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছিল তেজগাঁওয়ে গ্রেপ্তার ১২ জন

তেজগাঁও কলেজের মসজিদে জুমার নামাজের পর গ্রেপ্তার ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনের উগ্রবাদী তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাদের টেলিফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংশ্লিষ্টতার কথা জানা গেছে বলে জানান তিনি।
আজ রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর তেজগাঁও কলেজের মসজিদে কিছু ব্যক্তি নামাজ শেষ হওয়ার পরও বসে আলোচনা করছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা ২৩ জনের মতো।
গ্রেপ্তারের পর তাদের টেলিফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয় এবং পার্শ্ববর্তী থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ১১ জনের বিরুদ্ধে টেলিফোন ফরেনসিক বা জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো সাক্ষ্য, প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তাদের অভিভাবক ও সমাজের মুরব্বিদের ডেকে তাদের কাছে ওই ১১ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাকি ব্যক্তিদের টেলিফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, তারা ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন করতে চেয়েছিলেন। ওই সংগঠনের মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অনেকটা এক্সট্রিমিস্ট (জঙ্গি), আমি বলব যে, উগ্রবাদী তৎপরতার জন্য তারা সংঘটিত হতে চেয়েছিল।’
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স। ...বাকি তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দুই মাসে ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির দেওয়া তথ্য পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। কোন ঘটনা কী কারণে ঘটছে এবং এসব ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে এবং বিচারের মুখোমুখি করছে। তবে শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তার কারণও খুঁজে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কী, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে এবং বিচারের মুখোমুখি করছে। তবে শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, সাইবার স্পেসে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে মাদক, জুয়া বা পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত অপরাধ জড়িত।
তিনি বলেন, সমাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মোটিভেশনাল কার্যক্রম নিতে হবে, যাতে তরুণেরা এসব কর্মকাণ্ডের দিকে আকৃষ্ট না হয়।
এ জন্য সরকারি পর্যায়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে তরুণদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিকশিত করে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কাজে সময় লাগবে। সমাজে পচন, অবক্ষয় ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে। এখন এর লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব গ্রহণের পর গুরুতর অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে যেসব ঘটনা তদন্তসাপেক্ষ, সেগুলোর অগ্রগতি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











