‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’: অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম

‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এর জবাব চাই।’ একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হারিয়ে এভাবেই ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
অপ্রতিমের মৃত্যুর পর তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে তার হাসিমুখের স্মৃতি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। নির্বাক হয়ে গেছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে ছিল না মায়ের দেওয়া আইফোনটি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতিমকে ফিরে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানিয়েছিলেন মা নাহিদা বেগম। তবে শেষ পর্যন্ত জীবিত সন্তানকে আর ফিরে পাননি তিনি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে কোটবাড়ী বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার প্রথম দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর বিলাপ করতে করতে তার মা নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে—আমি এর জবাব চাই।’
ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে অপ্রতিমের মা বলেন, সন্তানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
(ঢাকাটাইমস/২০ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











