সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার

কিংবদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে ডনকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে সিআইডির একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেটির তদন্ত চলছে।’
জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের নির্দেশ দেন আদালত। মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেওয়া নির্দেশের পরপরই রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম।
আলোচিত এই মামলায় সর্বমোট ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যা মামলায় এক নম্বর আসামি নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং ৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আশরাফুল হক ডন।
অন্য ১০ আসামিরা হলেন— প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।
মামলার পরপর আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা বার্তা পাঠায় পুলিশ।
পরবর্তীতে মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সালমান শাহ মৃত্যুর মামলার তদন্তে ইতি টানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের দাবি- হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। সংস্থাটি সালমান শাহ হত্যার সন্দেহভাজন আসামী খল অভিনেতা ডনকে দায় মুক্তি দেয়।
তখন পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে 'অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা' নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরসহ পাঁচ কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেন সালমান। প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই কর্তৃক তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে সালমান শাহ খুনে অভিযুক্তরা সব দায় থেকে মুক্ত হলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































