ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১
অ- অ+

প্রতারণা, জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন—ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন।

মামলায় বলা হয়, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় ও আমদানিকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন বাদী। শুরুতে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, ১ লাখ টাকার কেনাকাটার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হতো। এ ছাড়া ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানো হতো। এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রেখে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, কর্মীদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। অভিযোগকারী শিহাব মাহমুদ বশির নিজের দায় এড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হয়রানি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব মামলা করেছেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চারটি মামলারই তদন্ত একই থানার পুলিশ করেছে। তদন্ত শেষে দুটি প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইন মেনে চলা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ও সত্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।

(ঢাকাটাইমস/২৪ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ল
চাঁদাবাজির অভিযোগে খিলক্ষেত থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আটক
হরমুজ প্রণালি খুলবে কবে? ৭ শর্ত জানাল ইরান