মার্কিন নির্বাচন

কারচুপিতে পুতিনের মদদ রয়েছে: গোয়েন্দা প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:২৮ | প্রকাশিত : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ০৯:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সহযোগিতা করতে চেয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে

আরও বলা হয়, ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে চান। সেজন্য পুতিন তাকে বেশ পছন্দ করেন।

ট্রাম্পের প্রতি এই ‘ভালোলাগা’ থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ব্যবস্থা নিতে 'নির্দেশ' দিয়েছিলেন বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও এর আগে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। মস্কো এখনও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

এদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মার্কিন নির্বাচনে কারচুপিতে পুতিনের ভূমিকা কি ছিলো সে প্রসঙ্গে বিস্তারিত কিছু স্পষ্ট করা না হলেও, রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২৫ পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে রাশিয়ার ভূমিকা নিম্নে দেয়া হলো-

১. ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি এবং শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্রেট নেতাদের ইমেইল হ্যাক করা।

২. এসব হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে সেগুলো উইকিলিকসের মতো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া।

৩. এসব করতে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করা এবং সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নোংরা মন্তব্যের সুযোগ করে দেয়া।

৪.যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর জনগণের আস্থা নষ্ট করা। 

৫. প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের নামে কুৎসা রটানো, যাতে সম্ভাবনায় প্রার্থী হিসেবে তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা হারান।

৬. রাশিয়ার কোন কোন গোয়েন্দা এই হ্যাকিংয়ে কাজ করেছে, তাদের পরিচয় যুক্তরাষ্ট্র জানে। তবে তাদের পরিচয় প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

৭. ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকনি ও সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর গেয়ারহার্ড শ্রোয়েডার নাম উল্লেখ রয়েছে। এদের সঙ্গে পুতিনের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও কাজের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই বিষয়েও প্রতিবেদনে বিশেষ ইঙ্গিত রয়েছে।

এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ব্যাপারে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হলে গতানুগতিক ভাবেই তিনি শুধু বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলে এসবের কোন প্রভাব পড়েনি।’

ট্রাম্প নিজের সম্পৃক্ততার কথার স্বীকার না করে বরং এর জন্য ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির 'চরম উদাসীনতা'কে দায়ী করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্রেটদের চরম উদাসীনতার জন্য হ্যাকিং সম্ভব হয়েছে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এসব তথ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, ভোট যন্ত্রকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনটি প্রথমে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে পেশ করা হয়। তারপরই গোয়েন্দা প্রধানরা ট্রাম্পকে এসব বিষয়ে অবহিত করেন।

নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এসব গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই বিষয়ে রাশিয়াকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে চাই না। তবে গোয়েন্দা বিভাগের কাজের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।’

২৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ক্রেমলিন স্পষ্টভাবেই ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে হ্যাকিংয়ের সত্যতা নিয়ে আর কোন দ্বিমত রইল না। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার আদেশ দিয়েছিলেন।’

এদিকে ট্রাম্প এসব মোকাবেলায় কি ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে সে বিষয়ে ক্ষমতা গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে কমিটি গঠনের কথা বলেছেন।

(ঢাকাটাইমস/৮জানুয়ারি/প্রতিনিধি/জেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত