শিক্ষা সচিবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৫:৩৯

শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের রায় অনুযায়ী বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য আইন তৈরি না করা এবং ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ সারাদেশে স্কুল-কলেজে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এ রুল জারি করা হয়েছে।

বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আলামিন সরকার।   

শিক্ষা সচিব ব্যতিত অন্য পাঁচজন হলেন- শিক্ষামন্ত্রীর একান্তু সচিব নাজমুল হক খান (ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি), ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সদস্য এনামুল হক আবুল এবং অপারেশ চন্দ্র সাহা। 

ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সারাদেশে স্কুল-কলেজে নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আইন সংশোধন করতে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেই সময় অতিক্রম করলেও এখনো সেই আইন তৈরি করা হয়নি। এছাড়া হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, যেখানে যেখানে বিশেষ কমিটি আছে সেখানে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি করে নির্বাচন দিতে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড ওই রায় অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি করলেও ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাচন এখনো হয়নি। ইতিমধ্যে ওই সমস্ত স্কুলের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। এজন্য আদালত অবমাননার এই আবেদনটি দায়ের করি।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবকে (পিএস) ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ওই কমিটি ছাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ৩০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন বৃদ্ধি করেছে এবং শিক্ষকদের ৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেছে। যাহা অ্যাডহক কমিটির কাজ নয়। অ্যাডহক কমিটির কাজ হলো নির্বাচন করা। এসব কাজ করে তারা হাইকোর্টের রায় অবমাননা করেছে।   

আবেদনকারী আইনজীবী জানান, আইন তেরি না করা এবং নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এদেরকে গত ১০ জানুয়ারি লিগ্যাল নোটিশ দেয়। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে গত ৩০ জানুয়ারি আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করি। ইতিপূর্বে দুই দিন শুনানির পর আজকে আদেশ দেন। 

২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এছাড়া দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে জাতীয় সংসদ সদস্যগণের (এমপি) না থাকার বিষয়ে দেয়া রায়ও বহাল রাখা হয়।

এর আগে ওই বছরের ১ জুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডিতে এমপিদের নিয়োগ সংক্রান্ত্ত প্র-বিধানমালার ৫(২) ধারা এবং বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত ৫০ ধারা অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বেসরকারি বিমান পরিবহান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বাধীন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের বিশেষ কমিটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে। আদালত ভিকারুননিসার বিশেষ কমিটি বাতিল করে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। ঐ অ্যাডহক কমিটিকে ৬ মাসের মধ্যে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন সম্পন্ন করতেও বলা হয়।

বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০০৯  এর এই দুটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ।

(ঢাকাটাইমস/২৮ ফেব্রুয়ারি/এমএবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :