এআই প্রযুক্তিতে মহাসড়ক নজরদারি, দুই মাসে চাঁদাবাজি বন্ধের লক্ষ্য অতিরিক্ত আইজিপি ফারুকের

অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজি দমনে মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত দুই সড়কপথ—ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ও সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ফারুক আহমেদ।
রবিবাত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারুক আহমেদ বলেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কটির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু হয়েছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কেন্দ্রীয়ভাবে দুই মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছে।
তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাইওয়ে পুলিশই এ নজরদারি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, উন্নত এই নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে যানজট কমাতেও সহায়ক হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
গত ৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, দেশের মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে তিনি বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে সক্ষম হব বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, দুই মাস পর হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশা করছেন।
ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে সারা দেশে হাইওয়ে পুলিশের ৭৩টি থানা রয়েছে। সেবার মান আরও বাড়াতে থানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দুটি দায়িত্ব হলো মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ, বিশেষ করে ডাকাতি ও মাদক পাচার দমন এবং যানজট কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে।
২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে চারটি বিভাগ, আটটি অঞ্চল, সাতটি ক্যাম্প, ৭৩টি থানা ও ১০টি সার্কেলের মাধ্যমে দেশের প্রায় ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছে। অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৮১৪ জন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































