টাঙ্গাইলে জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় বৃদ্ধের মৃত্যু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫১ | প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:৫৬

টাঙ্গাইলে দেলদুয়ারে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের আঘাতে সানা মোহন ঘোষ (৭২) নামে এক বৃৃদ্ধের মৃত্যুর হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেচে।

রবিবার বিকেলে উপজেলার পাথরাইলে এ ঘটনা ঘটে। সানা মোহনের মৃত্যুর পর স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অপর দিকে হত্যার অভিযোগে চৈতন্য রায় তার পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সানা মোহন ও চৈতন্য রায়ের সাথে কিছুদিন ধরেই রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। নরেন্দ্র ঘোষের ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করে চৈতন্য রায়। শর্ত থাকে এক হাত বরাবর রাস্তা থাকবে। নরেন্দ্র ঘোষ এক হাত রাস্তাও দিয়েছেন। চৈতন্য বর্তমানে নরেন্দ্র ঘোষের বড় ভাই সানা মোহন ঘোষের কাছে গাড়ি প্রবেশের মতো অতিরিক্ত জায়গা দাবি করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। এদিকে এক হাতের বেশি জায়গা রেখে সানামোহন ঘোষ বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন।

এর ধারাবাহিকতায় রবিবার দুপুরে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌসসহ বেশ কয়েকজন লোক জায়গাটি পরিদর্শনে বা বিরোধ মিমাংশা করতে ঘটনাস্থলে আসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এসময় চৈতন্য উত্তেজিত হয়ে সানা মোহনকে শারীরিকভাবে আঘাত করে। এরপর তিনি পড়ে যান। আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে বাসন্তি ঘোষ, স্ত্রী দুলালী ঘোষ, নাতী বিপ্লব ঘোষ বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী সিমানা নির্ধারণ করে গেছেন। সে মতে এক হাতের অধিক হাঁটার রাস্তা রেখে পাকা ঘর তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু চৈতন্য ক্ষমতার দাপটে গাড়ি প্রবেশের রাস্তা চেয়ে আসছে। রবিবার দুপুরে পুলিশ ও ভাড়াটে লোক এনে জোড় পূর্বক রাস্তা বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে। একসময় পুলিশের উপপরিদর্শক ইয়াসিন আরাফাত রাস্তা বাড়ানোর পক্ষে থাকায় সাহস পেয়ে যায় চৈতন্য রায়। সে উগ্র হয়ে সানা মোহন ঘোষকে আঘাত করলে তিনি মারা যান।

এব্যাপারে পাথরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফুজ্জামান লিটন বলেন, এর আগে আমি জায়গাটা পরিদর্শন করে একহাতের বেশি রাস্তা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কথা অনুসারে রাস্তা রেখেছিল। আজ হঠাৎ উপজেলা থেকে লোকজন আসার পরই এ ঘটনা ঘটে।

এব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আমি শুনেছি সে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে প্রতিবেশীদের চলাচলের জন্য আরেকটু রাস্তা রাখলে ভালো হত।

এব্যাপারে দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মোশাররফ হোসেন জানান, সিমানা নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ চলছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সাথে থানা পুলিশ গিয়েছিল। তবে মৃত্যু ব্যাপারে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

(ঢাকাটাইমস/৩০এপ্রিল/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত