এবার টঙ্গীতে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ভিডিও ভাইরাল

ইফতেখার রায়হান, টঙ্গী থেকে
| আপডেট : ১২ মে ২০১৭, ২৩:২০ | প্রকাশিত : ১২ মে ২০১৭, ২৩:০১

গাজীপুরের টঙ্গীতে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধর ও উত্ত্যক্ত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়েছে। এ ঘটনায় ইমন (১৫), সুজন (১৫) ও সাগর (১৫) নামের তিন বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে টঙ্গী মডেল থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা গেছে, টঙ্গীর শিলমুন আব্দুল হাকিম মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রী গত ২৬ এপ্রিল পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। রাস্তায় স্কুল গেটের বাইরে চার বখাটে এক ছাত্রীকে উক্ত্যক্ত করে এবং লাল গেঞ্জি পরা এক বখাটে দৌড়ে গিয়ে ওই ছাত্রীকে চড়থাপ্পড় দেয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর হাত ধরে টানাহেচড়া করে এবং শ্লীনতাহানীর চেষ্টা চালায়।

এসব দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনিরের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র শিহাব। পরে তাদের মধ্যে একজন এই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর তুলে নেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে নড়েচড়ে বসে স্কুল কমিটি ও প্রশাসন। এ ঘটনায় পরদিন স্কুলে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক ও স্কুল কমিটির সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হেলাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে ওই বখাটেদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার আলোচিত ভিডিওটি আবারো ফেসবুকে আপলোড হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর বাবা সাত বখাটে ছাত্রের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রাতে টঙ্গী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে টঙ্গীর শিলমুন, মরকুন ও কলেজগেট এলাকা থেকে তিন বখাটেকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন হেলাল প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে নিজেই বিভিন্ন স্বার্থে আপস-মীমাংসা করে থাকেন। ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনাটিও তিনি সেভাবেই মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মামলা করে ওই ছাত্রীর পরিবার।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ঢাকাটাইমসকে জানান, গত চার বছর ধরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মনিরুজ্জামান মনির। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্কুলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্কুল কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিনেরও এর সঙ্গে যোগসাজস আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও উভয়েই তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এবিষয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটি স্কুলের কোনো ঘটনা না, স্কুলের বাইরের ঘটনা। এ ব্যপারে আমি কিছু জানি না।’ তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেছেন, কাউন্সিলর হেলালের উপস্থিতিতেই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল।

স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ইভটিজিংয়ে শিকার হয়েছে আর আপনি সেই স্কুলের কমিটির সভাপতি এ ব্যপারে আপনার করণীয় কী এমন প্রশ্নে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘হ্যাঁ তারা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ছিল, তো কী হয়েছে? সমস্যা কী? আপনি থানায় যান এবং মামলার বাদীর সাথে কথা বলেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমি এলাকার কাউন্সিলর, এলাকার কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আমি কথা বলতে পারবো।’

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করি স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর ইভটিজিংয়ের বিষয়টি স্কুল কমিটি ও অভিভাবকদের নিয়ে মীমাংসা করা হয়েছিল।’

টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘এই ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ভিডিও লিঙ্ক: https://www.facebook.com/Dhakatimes24com/videos/1300598473389897/

(ঢাকাটাইমস/১২মে/আইআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত