যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এখনও যুদ্ধাপরাধী আলিমের নাম

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ মে ২০১৭, ০৮:২৮ | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০১৭, ০৮:২৭

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সাবেক মন্ত্রীদের তালিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধী আবদুল আলিমের নাম শোভা পাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তার নাম দেখা গেছে। এই আলিমকে একাত্তরে অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কারাভোগরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মারা যান তিনি।

মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধে যেসব সাবেক মন্ত্রী দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সমাজকল্যাণে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের নাম কালো কালিতে ঢেকে দেয়া হয়েছে। আর ওয়েবসাইটে তার নামের আগে যুদ্ধাপরাধী শব্দ যোগ করা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামের আগে যুদ্ধাপরাধী শব্দ যোগ করা হয়েছে। কিন্তু কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং যোগাযোগে বিএনপি সরকারের আমলের মন্ত্রী আবদুল আলীম অক্ষতই রয়ে গেছেন।

স্বাধীনতার পর এপর্যন্ত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ৩০ জন ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেন। এদের মধ্যে আব্দুল আলিমের নাম রয়েছে ১১ নম্বরে। এছাড়াও তিনি রেলপথ ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ ধারার ২ (ঘ), (ঙ) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ১৯৭২ এর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কিংবা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে তার সংসদপদ বাতিল হয়ে যায়।

৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ এই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় সেই ক্ষেত্রে সে যদি রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হোন তারা প্রজাতন্ত্রের কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।

সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ওদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেওয়ায় আমরা যে কলঙ্ক পেয়েছি, তা ভবিষ্যতে আর চলতে দেয়া যায় না। তাদের আর বাংলাদেশের মন্ত্রী পদের মর্যাদা থাকতে পারে না। মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদে তাদের নাম রাখা মানে রাজাকারদের মনে রাখা। আমরা চাই না এই জাতি আর এই কলঙ্কিত মানুষদের মনে রাখুক।’

২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একাত্তরে জয়পুরহাটে রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২।

২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তার হন ২০১১ সালের ২৭ মার্চ। ২৮ মার্চ তাকে হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে। তবে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাকে শর্ত সাপেক্ষে ৩১ মার্চ জামিন দেয়। একই বছর ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষমাণ রাখার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আব্দুল আলীমের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে ছিলেন।

২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ১৭টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে বয়স ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সাবেক মুসলিম লীগ নেতা আব্দুল আলীম স্বাধীনতা পরবর্তী জিয়া সরকারের আমলে রেল, যোগাযোগ ও বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদের শাসনামলে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগে যোগ দেয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও ১৯৯৬ সালে তিনি আবার বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি জয়পুরহাট সদর আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন যারা

দেশ স্বাধীনের পর এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম দায়িত্ব পান এম মনসুর আলী। তিনি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ‘৭১ এর ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ সালের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয় সামলেছেন শেখ আব্দুল আজিজ। এরপর বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলের বাকি সময়ে দায়িত্ব পালন করেন মনসুর আলীই।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোশারফ হোসেন খান, কাজী আনোয়ারুল হক, এম মজিদুল হক, মশিউর রহমান, এস এম শফিউল আজম, সামসুল হুদা চৌধুরী, মাহবুব আলী খানের পর দায়িত্ব পান মানবতাবিরোধী অপরাধী আবদুল আলীম। তার পরে এ জেড এম ওবায়দুল্লাহ খান, সুলতান আহমেদ, মওদুদ আহমেদের হাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আসে দায়িত্ব।

এরপর আবার সুলতান আহমেদ, দ্বিতীয় মেয়াদে মওদুদ আহমেদ, এম এ মতিন, এম মতিউর রহমান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, অলি আহমেদ, আবদুল মতিন চৌধুরীর হাতে আসে দায়িত্ব।

এরপর আবার দায়িত্ব পান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তারপর নাজমুল হুদা, সৈয়দ আবুল হোসেন ও ওবায়দুল কাদেরের হাতে আসে দায়িত্ব।

(ঢাকাটাইমস/১৮মে/এমএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত