শরীয়তপুরের পদ্মায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৭, ০৮:২৮

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর ওয়াপদা পয়েন্টে পণ্যবোঝাই জলযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতার যোগসাজসে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে এই নৌ-রুটের চাঁদাবাজি।

ট্রলারমাঝিদের অভিযোগ ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর ওয়াপদা পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত জলযান যাতায়াত করে। এর সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ওই চক্রের সদস্যরা প্রতিটি জলযান থেকে প্রতিদিন দুই থেকে ৫০০ টাকা করে গড়ে অর্ধ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। আর এ দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা জলযান চালকদের মারধর করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় এক ট্রলারমাঝি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ট্রলারে করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় ওয়াপদা পয়েন্টে সুমন নামে একটি ছেলে ট্রলার থামিয়ে ৩০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। ওদের টাকা না দিয়ে এই রুটে যাওয়া যাবে না। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে তাদেরকে মারধর করে চাঁদার টাকা নেয় তারা। এ কারণে ট্রলারের সংখ্যা কমে গেছে। আমরা এর একটি সমাধান চাই।’

ওয়াপদা লঞ্চ ঘাটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে দোকান খোলার সময় দেখি সুমন ট্রলার থেকে টাকা তোলে। আমাদের এই ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাচান মোল্লা ওদের টাকা তোলার টেন্ডার আইনা দিছে। এলাকার পোলাপাইন মারামারি করে দেইখা ১০ জনকে নিয়া একটা কমিটিও করছে।’

কেদারপুর ইউপি সদস্য হাচান মোল্লার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এলাকার পোলাপাইন টাকা তোলা নিয়া মারামারি করে। এ কারণে আমাগো এক লিডার আমারে প্রশাসন দেখার দায়িত্ব দিছে। আমি কোনো কমিটির বিষয়ে জানি না।’ সন্ধ্যায় দেখা করে বিস্তারিত জানাবে বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নৌপথে এমন চাঁদাবাজির বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত