গরমে অসুস্থ হচ্ছে শিশু, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

সিরাজুম সালেকীন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মে ২০১৭, ১৩:৫৯ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৭, ১০:৪৯

দেশজুড়ে তাপদাহ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এই তাপদাহ কমার সম্ভাবনা দেখছে না আবহাওয়া অফিস। এদিকে গ্রীষ্মের তাপদাহ বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে চলেছে ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশুরা হাজির হচ্ছে এখানে। জলবসন্ত, ফুসকুড়ি, ডায়রিয়া, সর্দি জ্বর, টাইফয়েডের পাশাপাশি চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীও আসছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

এসব শিশুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীর স্বজনরা। তবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শেষ করে খুব কম শিশুই বাড়ি ফিরতে পারছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছে চিকিৎসকরা। এদিকে জরুরি অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তি হবার কথা বললেও বেড খালি না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। আর হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে চার হাজার নয় শ ১৬ জন। পরববর্তী সপ্তাহে শতাধিক রোগী বাড়লেও সর্বশেষ দুই সপ্তাহে তা বেড়ে দাড়িয়েছে পাঁচ হাজার ছয় শ তে। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আটশ বত্রিশ জন।’

গত এক-দেড় সপ্তাহ ধরে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে তিনি জানান।

হাসপাতাল বলছে, স্বাভাবিক ভাবে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে দুই শ থেকে আড়াই শ রোগী দেখা হলেও তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ শ থেকে সাড়ে পাঁচ শ তে। এছাড়া অন্যান্য বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে এক হাজারের বেশি রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালটিতে বেডের সংখ্যা ৬৫০টি। যার সবগুলোতেই শিশুরা ভর্তি। বেড ফাঁকা না থাকলে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি নেয়ার নিয়ম না থাকায় অনেককেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

টাঙ্গাইল থেকে ছেলের জ্বর ও ঠাণ্ডা নিয়ে শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন জুয়েল হক। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বেশ কদিন ধরে জ্বরে ভুগছে আমার বাচ্চা। ডাক্তার বললেন ভর্তি হতে এখানে, ইচ্ছে থাকলেও বেড পাইনি। বাচ্চাকে নিয়ে এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’

তিনি একা নন তার মতন এমন অনেকেই বেড না পেয়ে হয় বেসরকারি হাসপাতালের দিকে পা বাড়চ্ছেন। আর সে সামর্থ্য না থাকলে অসুস্থ্য বাচ্চাকে ভাগ্যের ভরসায় বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল আহসান বিপুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আবহাওয়া জনিত কারণে বর্তমানে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের হতাশ না হয়ে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এই আবহাওয়ায় শিশুদের বেলা ১২টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত বাহিরে বের হতে দেয়া যাবে না। বাসায় থাকা অবস্থায় শিশুদের তরল খাবার এবং পানি দিতে হবে। পাতলা সুতির কাপড় পরাতে হবে। কাশি ও নিউমোনিয়ার শিশুদের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে গলা বা শরীর যেন না ঘামে। এছাড়া বাচ্চাদের গরম ও ধূলাবালির মধ্যে খেলতে দেওয়া যাবে না। বাচ্চারা যখন স্কুলে যাবে তখন মাস্ক, পাতলা সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল খাবার এবং পানি তাদের সাথে দিয়ে দিতে হবে। আর বাহিরের কোন তরল খাবার বিশেষ করে আখের রস বা সরবত খেতে দেওয়া যাবে না শিশুদের। চিকনগুনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ খাওয়াতে হবে। শিশুকে সম্পুর্ন বিশ্রামে রাখতে হবে। যদি অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যায় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।’

ছবি: সাইফুল ইসলাম

ঢাকাটাইমস/২৫মে/সিসা/কেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত