রমজান: মুমিনজীবনের অনন্য প্রাপ্তি

ইসলাম ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০১৭, ২০:১০

মানুষের সাফল্যের অপার সম্ভাবনা নিহিত আছে পবিত্র রমজান মাসে। এ মাসে প্রভুর অফুরন্ত রহমতের বারিধারা বর্ষিত হয়। তাঁর নেয়ামতের ভাণ্ডার খুলে দেয়া হয়। মুক্তির সুসংবাদ পৌঁছে দেয়া হয় মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে। সিয়াম মানুষকে প্রবৃত্তির গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। মানুষের পাশবিক ইচ্ছা এবং জৈবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণে আনে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করে। রোজার দ্বারা মানুষের ভেতরের পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায়, মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়। এজন্য দারিদ্রপীড়িত মানুষগুলোর অনাহারি মুখ তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক করে। মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে ওঠে। রমজান মুমিন জীবনের অনন্য প্রাপ্তি। রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের বহুমুখি কল্যাণের সন্ধান দেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তান সব সময় উঁৎ পেতে থাকে। কিন্তু রমজানের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়। এজন্য রমজানে শয়তানের মন্ত্রণার ঝুঁকি থাকে না।

রমজানে বেহেশতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়, আর দোজখের দুয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়। যারা জীবনের স্রোতধারা সঠিক পথে প্রবাহিত করতে চায় তাদের জন্য রমজান অনেক বড় আশীর্বাদ। এ মাসের প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর একজন ফেরেশতা মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত থাকার এবং ভালো কাজ করার আহ্বান জানায়। এজন্য জীবন সাজানোর এটাই উপযুক্ত সময়। কম কাজে বেশি প্রতিদান পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রমজান মাস। এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান। এ মাসের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম। কেয়ামতের দিনে যখন আর কোনো অবলম্বন থাকবে না তখন রোজা সুপারিশ করে বান্দাকে তার পরম কাক্সিক্ষত গন্তব্য জান্নাতে পৌঁছে দেবে। যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে রোজা রাখবে তাকে সম্পূর্ণ পাপমুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা রয়েছে।

রমজানের রোজার প্রাপ্তি নির্ভর করে আমাদের একনিষ্ঠতার ওপর। আল্লাহর নির্দেশের প্রতি একনিষ্ঠ না হলে রোজার প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে না। কারণ সিয়াম সাধনা এমন একটি ইবাদত যাতে রিয়া বা লৌকিকতার কোনো সুযোগ নেই। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে, চুপিচুপি খেলে দুনিয়ার কেউ দেখবে না। তবুও রোজাদার খায় না। কারণ তাঁর অন্তরে বিশ্বাস আছে, দুনিয়ার কেউ না দেখুক আমার স্রষ্টা মহান রাব্বুল আলামিন তো অবশ্যই দেখছেন। রোজা তো রাখা হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য। এজন্য রোজার প্রতিদানও অন্য যেকোনো ইবাদতের চেয়ে বেশি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানুষ কেবল আমার উদ্দেশ্যেই রোজা রেখে তার প্রবৃত্তি দমন করেছে এবং পানাহার ত্যাগ করেছে। সুতরাং এর পুরস্কার আমি নিজেই (যত ইচ্ছা) দান করবো।’

রমজান মানুষকে নতুন জীবন দান করে। রমজানের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। পরকালের পাথেয় সংগ্রহের জন্য রমজানের চেয়ে বেশি সম্ভাবনা আর কিছুতেই নেই। এজন্যই রাসুল (সা.) আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান পেল কিন্তু তার জীবনের বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করাতে পারল না, সে বড়ই দুর্ভাগা!’

(ঢাকাটাইমস/০৫জুন/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত