রমজানের শেষ দশকের তাৎপর্য

মাওলানা ইউসুফ নূর
 | প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৭, ০৯:১৬

বিশেষ বরকত, বিপুল কল্যাণ ও অশেষ পুণ্যের সওগাত নিয়ে প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর সকাশে হাজির হয় মহিমান্বিত মাস মাহে রমজান। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, মাহে রমজানের প্রথম রজনীতেই শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এর একটি দরজাও আর খোলা হয় না। বেহেস্তের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয় এবং এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। এমাসে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষণকারী অগ্রসর হও, আর হে পাপাসক্ত বিরত হও। আর এ মাসে আল্লাহ অজস্র লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। এবং প্রতি রাতেই এরূপ হতে থাকে। (তিরমিযী, হাদীস নং ৬৩৪)

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত অন্য হাদীসে মহানবী সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (তিরমিযী, হাদীস নং ৬৩৫)

রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজানের দিবা-নিশি ও প্রতিটা মুহূর্ত ফজিলতপূর্ণ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শেষ দশকের মর্যাদা ও গুরুত্ব অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।  ইবাদাতের বসন্তকাল মাহে রমজানের উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠাংশ হচ্ছে তার শেষ দশক। একে রমজানের সারাংশ ও তার শীর্ষ চূড়া বলেও অভিহিত করা যায়। এ দিনগুলোতে দয়াময়ের পক্ষ থেকে করুণার বারিধারা ও মার্জনার প্রতিশ্রুতি এবং মুক্তির কাংখিত ঘোষণা মুমিন হৃদয়কে ব্যাকুল করে তোলে। এজন্যই মহানবী সা., সাহাবায়ে কেরাম ও বুযুর্গানেদ্বীন এ দশকে ইবাদাতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নবান থাকতেন।

১. ইবাদাত ও সাধনার দশক

হযরত আয়শা রা. বলেন রাসূলুল্লাহ সা. মাহে রমজানের শেষ দশ দিন ইবাদাতে এত বেশি সাধনা করতেন যা অন্য কোন সময়ে করতেন না। (তিরমিজি, হাদীস নং ৭৪৪)

২. স্বপরিবারে ইবাদত উদযাপনের দশক

হযরত আয়শা রা. বলেন, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সা. সারা রাত জাগতেন। নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন আর ইবাদাতে প্রচুর সাধনা ও অধিক পরিশ্রম করতেন। (মুসলিম হাদীস নং ২৬৬৩)

 ৩. শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদর

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদর। শুধু এ রাতটির কারণেই এ দশককে অনায়াসে রমজানের রাজমুকুট বলা যায়। কোরআনে মহিমান্বিত এ রজনীর মর্যাদা ও মহাত্ম বর্ণনা করে স্বতন্ত্র একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে।

‘নিশ্চয় আমি তা অর্থাৎ কোরআন শবে ক্বদরে অবতীর্ণ করেছি। আপনি কি জানেন শবে ক্বদর কী? শবে ক্বদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (অর্থাৎ জিবরাঈল আঃ) প্রত্যেক কাজে তাঁদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হন। সে রাত আদ্যোপান্ত শান্তি- ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত’।

সারমর্ম: শবে ক্বদরে সম্পূর্ণ কোরান লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়। রাসূল সা. এর উপর কোরআন নাজিলের সূচনাও হয় লাইলাতুল ক্বদরে। একারণেই এ রাতটি মহিমান্বিত। হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।  অর্থাৎ এক হাজার মাস ইবাদাত বন্দেগীতে কাটালে যে ছওয়াব হতে পারে এই এক রাতের ইবাদাতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব অর্জন করা যায়। মহানবী সা. বলেছেন,  যে ব্যক্তি ক্বদর রজনীতে ঈমান ও এহলাস সহকারেইবাদাত করবে তাঁর পূর্ব পাপসমূহ মিটিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী, হাদীস নং ২/৭০)  

এ রাতে নূরের ফেরেশতাগণ মাটির পৃথিবীতে নেমে আসেন। মুমিনদের ইবাদাত প্রত্যক্ষ করেন। তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। এমনিভাবে সারা বছরের ভাগ্যলিপি এ রাতে আল্লাহ ফেরেশতাদের উপর ন্যস্ত করেন। তারা যথাসময়ে তা কার্যকর করেন। 

লাইলাতুল ক্বদর কোনটি?

কুদরতের অপার রহস্যে এ রাতটি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। ক্বদরের রাত নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সাহাবা কিরামের মাঝে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। কারো মতে ২১ রমজান, কারো মতে ২৩ আর কেও বলেন ২৭ রমজান।

 ২১ রমজানে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার ব্যাপারে হযরত আবু সাইদ খুদরি রা. বর্ণিত হাদিস প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন,রাসূল সা. রমজানের মধ্য দশকে ইতিকাফে বসতেন। যখন বিশ রমজান গত হয়ে ২১ রমজান আগমন করত, তখন তিনি ঘরে ফিরে যেতেন। যারা তাঁর সাথে ইতিকফে থাকত তারাও আপন ঘরে ফিরে যেতো। একবার রমজানে তিনি সেই রাতে ইতিকাফে ছিলেন, যে রাতে সাধারণত তিনি ঘরে চলে যেতেন। তিনি সকলের সামনে ভাষণ দিলেন, এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আদেশ প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন, আমি মধ্য দশকে ইতিকাফ করতাম। কিন্তু এখন আমার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, শেষ দশকে ইতিকাফ করা উচিৎ। অতএব যারা আমার সাথে ইতিকাফে বসেছ তারা যেন নিজের ইতিকাফে অবস্থান করে। আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়েছিল,তারপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ কর। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি পানি ও কাদায় সিজদাহ করছি। সেই রাতেই আকাশ থেকে বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব ভেসে গিয়েছে এবং রাসূল সা. এর নামাজের স্থানটিতে পানি গড়িয়ে পড়েছে। এটা ছিল ২১ তারিখের রাত। আমি স্বচক্ষে দেখেছি রাসূল সা. ফজরের নামাজ শেষ করেছেন আর তাঁর চেহারায় ছিল কাদা ও পানির চিহ্ন। (বুখারী, হাদীস নং ১৮৭৬)

ইমাম শাফিয়ী রহ. বলেন, লাইলাতুল ক্বদর বিষয়ে ২১ তারিখ সম্পর্কিত বর্ণনাটি আমার কাছে সব চেয়ে শক্তিশালী মনে হয়।

২৩ রমজান লায়লাতুল ক্বদর হওয়া সম্পর্কেও হাদীস বিদ্যমান। আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস আল জুহানী বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি দূরে বনভূমিতে অবস্থান করি এবং আল্লাহর শুকর সেখানে নামাজও পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা দিন, যাতে আমি সে রাতে আপনার মসজিদে এসে ইবাদাত করতে পারি। রাসূল সা. বললেন, তুমি ২৩ রমজানের রাতে আসবে। (আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৮০)

ইমাম আসওয়াদ রাহঃ বলেন, হযরত আয়শা রা. ২৩ রমজানের রাতে আমাদেরকে ইবাদাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ৭৬৯৫)

ওবাইদুল্লাহ বিন আবু ইয়াজিদ রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ আব্বাস রা. ২৩ রমজানের রাতে পরিবারের সদস্যদের ঘুম তাড়ানোর জন্য তাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিতেন। ( মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবাহ, ৯৫৪১)

অপর দিকে অনেক সাহবা কিরাম ২৭ রমজান লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার পক্ষে বলিষ্ঠ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কয়েকটি হাদীসেও তার স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।      

হযরত মুআবিয়া রা: বর্ণিত, রাসূল সা: বলেন, লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে ২৭এর রাত। আবু দাউদ, হাদীস নং ১১৭৮

হযরত যির ইবনু হুবাইশ রা. বলেন,ক্বদরের রাত সম্পর্কে উবাই ইবনু ক্বাআব রা. বলেছেন, আল্লাহর কসম, এ রাতের ব্যাপারে আমি সব চেয়ে ভাল জানি। রাসূল সা. যে রাতে আমাদেরকে জাগ্রত থেকে ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা ছিল ২৭ এর রাত। (মুসলিম, হাদীস নং ২৬৫৪)

হাসসান ইবনু আবদুল্লাহ আল শাহমী রাহঃ বলেন, আমি যির বিন হুবাইশ (রা.) কে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হযরত ওমর, হুজাইফা রা. সহ অনেক সাহাবা কিরাম ২৭ এর রাতে লাইলাতুল ক্বদরের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতেন না। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবাহ, ৯৫৪১)

লাইলাতুল ক্বদরের ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী কিন্তু বলিষ্ঠ প্রমাণ সমৃদ্ধ মতামত সমূহের সমাধান পাওয়া যায় সাহাবী আবু কিলাবা রা. এর বক্তব্যে। তিনি  বলেন,  শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর আবর্তিত হতে থাকে। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক,৭৬৯৯)

ক্বদরের রাত কেন অনির্দিষ্ট থেকে গেল?

হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম মহিমান্বিত লায়লাতুল ক্বদর অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট থেকে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দুই মুসলমানের কলহ-বিবাদ। বুখারীর হাদীসে তার বর্ণনা বিদ্যমান।

  ‘হযরত উবাদা ইবনু সামেত রা. বলেন, নবী করিম সা. আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে জানাতে বেরিয়ে আসলেন। এমন সময় দু জন মুসলমান কলহে লিপ্ত হল। তা দেখে রাসূল সা. বললেন, আমি বেরিয়েছিলাম তোমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে খবর দেয়ার জন্য। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে’। (বুখারী, ১৮৮২)

লাইলাতুল ক্বদরের দোয়া

লাইলাতুল ক্বদর দোয়া কবুল হওয়ার সর্বাধিক আশাপ্রদ রাত। মনের সব আশা আকাংখা প্রভুর সমীপে পেশ করার সর্বোত্তম রজনী। প্রাণ খুলে এরাতে দোয়া করুন। তবে নবী করিম সা. এর শেখানো ভাষায় দোয়া করলে তা কতই না উত্তম!!

হযরত আয়শা রা. বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ, বলুন তো যদি আমি লাইলাতুল ক্বদর পেয়ে যাই তাহলে কী দোয়া করব? তিনি বললেন, তুমি বলবে,  হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা আপনার পছন্দ, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (ইবনু মাজাহ, ৩৮৫০, তিরমিযী, ৩৫১৩)

আল্লামা ইবনু রজব বলেন, রমজানের শেষ দশকও লাইলাতুল ক্বদরে বিশেষ ইবাদত- সাধনার পর ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে প্রভুপ্রেমী সাধকদল প্রচুর ইবাদত করার পরও স্বীয় নেক আমল দ্বারা আত্মপ্রসাদ লাভ করেন না। এবং একজন অপরাধী ও দোষী ব্যক্তির ন্যায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। (লাতায়িফুল মাআরিফ) 

লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব না দেয়া

কল্যাণ ও বরকতময় রজনী লায়লাতুল ক্বদরের যথাযথ সম্মান না করা এবং তার ব্যাপারে উদাসীন থাকা চরম দুর্ভাগ্যের পরিচায়ক। হযরত আনাস ইবনু মালিক বর্ণিত, রমজানের প্রাক্কালে রাসূল সা. বলেছেন, তোমাদের কাছে এ মাস এসেছে, এতে রয়েছে এমন এক রাত যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত সে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরা তা থেকে বঞ্চিত হয়। (ইবনু মাজা, হাদীস নং ১৬৪৪)

লাইলাতুল ক্বদরকে অবহেলা কতই না দুর্ভাগ্যের ব্যাপার!! আফসোস, আমাদের দেশে মতবিরোধপূর্ণ শবেবরাত নিয়ে কত ধুমধাম আয়োজন, আর সে তুলনায় কোরান সুন্নাহ দ্বারা অকাট্য প্রমাণিত লায়লাতুল ক্বদরের যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার বড়ই অভাব। মক্কা মদিনাসহ আরব দেশগুলোতে লায়লাতুল ক্বদরের সন্ধানে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই তাহাজ্জুদ ও ইবাদতের আয়োজন দেখা যায়। আমাদের এখানে শুধু ২৭ তারিখের রাতে কিছুটা ওয়াজ নছিহত মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা হয়ে থাকে। যা মোটেও কাম্য নয়। অন্তত শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদতের চেষ্টা করা উচিৎ। ওলামা মাশায়েখ উদ্যোগ নিলে ফলপ্রসূ হবে ইনশাআল্লাহ। এমনিভাবে বিভিন্ন বইয়ে শবেক্বদরের নামাজ শিরোনামে যা আলোচনা করা হয়েছে তা মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এর স্বপক্ষে কোরান সুন্নাহর কোনো বিশুদ্ধ ও বলিষ্ঠ প্রমাণ নেই। শবে ক্বদরের নামাজ বলতে কিছু নেই। এ রাতে অধিক হারে সাধারণ নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা যায়। জিকির তাসবীহ দোয়া করার নির্দেশনাও এসেছে হাদিস ও বুজর্গদের জীবনাচারে। এটাই আমাদের শিরোধার্য।

ইতিকাফ

বছরের যেকোনো সময় ইতিকাফ করা যায়। তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের ফজিলত ভিন্ন। এটা মহানবী সঃ এর প্রিয় সুন্নাত।

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশকে নবী করীম (সা) ইতিকাফ করতেন। বুখারী, হাদীস নং ২৪৯

‏আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , নবী (সা) প্রতি রমযানে দশ দিনের ইতিকাফ করতেন । যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর তিনি বিশ দিনের ইতিকাফ করেছিলেন। বুখারী, হাদীস নং ২৬০

হযরত হোসাইনইবনু আলী রা. তাঁর পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের দশ দিন ইতিকাফ করলো সে যেন দুটো হজ্জ ও দুটো ওমরা করলো। বাইহাকী (সূত্র আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৬১৪)

হযরত ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি মসজিদে নববীতে ইতিকাফ রত ছিলেন। তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে সালাম করলো, এরপর বসলো। ইবনু আব্বাস রা. তাঁকে বললেন, কে অমুক তোমাকে যে অনেক চিন্তিত দেখছি? সে বলল, হ্যাঁ, হে রাসুলের চাচাত ভাই, আমার উপর অমুকের ঋণ রয়েছে। এই কবরের অধিবাসীর (মহানবী সা. ) এর মর্যাদার শপথ, এই ঋণ পরিশোধ করার সাধ্য আমার নাই। ইবনু আব্বাস রা. বললেন, আমি কি সেই ব্যক্তির সাথে তোমার ব্যাপারে কিছু বলব? সে বলল, যদি আপনি ভাল মনে করেন তাহলে বলুন। ইবনু আব্বাস রা. তখনই জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদ থেকে বের হলেন। লোকটা বলল, আপনি যে ইতিকাফ ছিলেন তা কি ভুলে গেছেন? তিনি বললেন, না, ভুলিনি। কিন্তু এই কবরের অধিবাসীকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তাঁর ভাই এর প্রয়োজনে কোথাও যাবে, তার জন্য এই কাজটা দশ বছরের ইতিকাফের চেয়েও উত্তম হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে তিন খন্দক পরিমাণের চেয়েও বেশি দূরে সরিয়ে দেবেন। আর প্রতিটি খন্দকের দূরত্ব পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত ও পশ্চিম প্রান্তের দূরত্বের চেয়েও বেশি। এই কথাগুলো বলার সময় ইবনু আব্বাস রদঃ এর চোখ যুগল ছিল অশ্রুসিক্ত। (তাবারানী, বায়হাকি, হাকিম, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ৬১৫)

উপরোক্ত হাদিসে এক দিকে ইতিকাফের সওয়াব ও অন্য দিকে মুসলিম ভাই এর বিপদে সাহায্য করার মহা পুরস্কারের বর্ণনা হয়েছে। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য ইতিকাফ ও পরোপকার দুটোই পুণ্যময় আমল। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: কাতার প্রবাসী খতিব ও মুবাল্লিগ

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ইসলাম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত