এত বেতন বাড়ানোর পর দুর্নীতি কেন হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩৪ | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫২

সরকারি চাকুরেদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ হওয়ার পরও কেন দুর্নীতি হবে-এই প্রশ্ন তুলে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

দুর্নীতি হলেই সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের মতোই দুর্নীতির বিরুদ্ধেও তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর এই প্রথম তিনি এই মন্ত্রণালয়ে অফিস করলেন।

নতুন সরকারে মোট ছয়টি দপ্তর নিজ হাতে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর আরো যে নয়টি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নেই, সেগুলোর তত্ত্বাবধান থাকবে তার হাতেই।

বিগত সরকারের সময়ের মতো মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি বাড়াতে এবং সৃজনশীলতার বিকাশে এবারও পর্যায়ক্রমে সবগুলো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি মন্ত্রণালয়ে গেলে কর্মকর্তারা তাকে বরণ করেন ফুল দিয়ে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে টানা প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা যেতে হবে- কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘আমরা বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা এতো বেশি বাড়িয়েছি-সে ক্ষেত্রে আমি তো মনে করি, আমাদের এ দুর্নীতির কোনো প্রয়োজনই নেই। যা প্রয়োজন তার সব তো আমরা মেটাচ্ছি তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন মানসিকতাটাকে পরিবর্তন করতে হবে।’

‘যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি। এ উদাহরণ মনে হয় পথিবীর কোনও দেশেই নাই।’

আওয়ামী লীগ সরকারের সদ্য সমাপ্ত মেয়াদে সরকারি চাকুরেদের বেতন ভাতা শতকরা ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আর এই বিষয়টির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি। এ উদাহরণ মনে হয় পৃথিবীর কোনও দেশেই নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

‘যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি তা আমরা পূরণ করতে পারব; তার জন্য প্রয়োজন সুশাসন, তার জন্য দরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা।’

জনপ্রশাসনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেবল জ্যেষ্ঠতা নয়, দক্ষতাকেও প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘কে কতো বেশি কাজ করতে পারে, সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে এবং নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলবে, সব কিছু বিবেচনা করে প্রমোশন হওয়া উচিত।’

পদ ফাঁকা পেলেই পদায়ন না, যার যে বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ রয়েছে তাকে সেই জায়গায় পদায়ন করারও নির্দেশনা দেন।

স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত হতে পারে।

অতীতে দরপত্র বাক্স ছিনতাই হলেও ই-টেন্ডারে যাওয়ায় এখন তা হয় না বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এভাবেই আমি মনে করি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা অনেকটা নিশ্চিত করা যায়। আমরা সেটাও করব।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত