বোয়ালমারীতে ৩৩ শহীদ স্মরণে গণহত্যা দিবস পালন

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ মে ২০২৪, ১৯:১৫
অ- অ+

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ৩৩ শহীদের স্মরণে ‘হাসামদিয়া গণহত্যা’ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হাসামদিয়ায় শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজ চত্বরে ‘শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে‘ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সন্তান, কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালে বক্তব্য দেন-বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ফরিদপুর জেলার মুজিব বাহিনীর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বোয়ালমারী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ রউফ সিদ্দিকী, সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক জহুর, গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী উৎপল দাস, শহীদ পরিবারের সন্তান প্রফেসর দেবাশীষ সাহা, ডা. কাজী তারেক পারভেজ প্রমুখ।

শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৬ মে তিন শতাধিক পাকসেনার একটি বহর যশোর থেকে রেলযোগে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামে তৎকালীন মুজিব বাহিনীর ফরিদপুর জেলা কমান্ডার শাহ মো. আবু জাফর ও তার নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে আসে। তাদের না পেয়ে পাক বাহিনীর দোসর, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় হাসামদিয়া, রামনগর, রাজাপুর, ময়েনদিয়া, রাজাবেনি, মিঠাপুর পোয়াইলসহ কয়েকটি গ্রামের ৩৩ জন নিরস্ত্র, নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর। স্থানীয় ময়েনদিয়া বাজারের চালানো হয় লুটপাট। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৫০ এর অধিক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

আলোচনা সভায় শহীদ বাসুদেব রাজবংশীর ছেলে স্বন্দীপ রাজবংশী, শহীদ নবদ্বীপ রাজবংশীর ছেলে নিখিল রাজবংশী, শহীদ গোপাল রাজবংশীর ভাগনে গৌর রাজবংশী, শহীদ সুমান্ত রাজবংশীর কন্যা পূর্ণিমা রাজবংশী ও তার ছেলে আপন রাজবংশী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সন্তানেরা গণহত্যায় ৩৩ জন শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জোর দাবি জানান।

(ঢাকা টাইমস/১৬মে/প্রতিনিধি/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও আগুন
গণতন্ত্র ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত চলছে: ফখরুল
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
ভারতকে সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে, বিদ্যুতের দাম দুই বছর না বাড়ানোর আহ্বান সাইফুল হকের
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা