ভারতকে সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে, বিদ্যুতের দাম দুই বছর না বাড়ানোর আহ্বান সাইফুল হকের

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০৫ জুন ২০২৬, ১৮:৩০
অ- অ+

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে সীমান্তে ‘পুশইন’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশবিরোধী সব ধরনের অপতৎপরতা পরিহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার সংহতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলছে, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এসব তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক মানুষকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এখন তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাইফুল হক বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাদের ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। একইভাবে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোরও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি ভারত বা বিএসএফের উসকানিতে পা না দিয়ে সমতা, ন্যায় ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সমস্যার টেকসই সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বিদ্যুতের মূল্য প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের মূল্য প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাজেটের আগে পাইকারি ও ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেখাতে পারেনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে চুরি, দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা কমাতে পারলে বর্তমানে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন নেই।

সাইফুল হক প্রশ্ন রেখে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতির দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারকে আরও কিছু সময় বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি আগামী জাতীয় বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপনের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খানসহ মহানগর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আগামী ১৪ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর কমিটির কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গণতন্ত্র ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত চলছে: ফখরুল
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় শব্দ দূষণ করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণের ৬০ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা