লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭
অ- অ+

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) জানায়, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের ওপর।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও অপারেটিভকে সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) হাতে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট জোন’ গড়ে তুলতে তারা সহায়তা করবে, যেখানে শুধু লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এর আগে গত এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা ছিল অত্যন্ত নাজুক। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এতে পূর্ববর্তী সমঝোতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কী হবে, সে সিদ্ধান্ত দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

আগামী ২২ জুন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ আবারও আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। তবে নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি হিজবুল্লাহ।

এদিকে আলোচনার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরাপদ লেবানন গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।

চলতি সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুই চিকিৎসাকর্মী নিহত হন। এছাড়া রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন ও দুটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশকে লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

এর আগে ইসরায়েল সতর্ক করে জানিয়েছিল, উত্তর সীমান্তে নতুন কোনো হামলা হলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহে আবারও বিমান হামলা চালানো হবে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

তবে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেছেন, প্রকৃত অর্থে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি; শুধু দাহিয়েহ অঞ্চলকে হামলার বাইরে রাখার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার আলোচনায় গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।

(ঢাকাটাইমস/৪ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে বিতর্ক, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে তোলপাড়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান
Dhaka’s Rising Heat: A Crisis of Urban Planning
রংপুরে থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা