রংপুরে থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১১
অ- অ+

রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব। তার অভিযোগ, বুধবার (৩ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে নিখোঁজ হওয়া এক প্রেমিক যুগলকে উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য পরিবারের অনুরোধে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের মধ্যে ছিলেন রাকিবুল ইসলাম রাকিবও।

রাকিবের দাবি, থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্যকে ওই যুগলকে মারধর করতে দেখে তিনি আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি ফোনে জানাতে গেলে ওসি, একজন এসআই এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিব। তার শরীরে রক্তের দাগ এবং একটি চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু থানায় গেলে আহত রাকিবকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে থানায় আনা ওই প্রেমিক যুগলকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রেমিক যুগলের দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ তা থামায়। পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে মারধর করা হয়নি।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রাত ২টা ২২ মিনিটে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) সুকুমার রায়।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

(ঢাকাটাইমস/৪ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নয়াদিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
হাদি হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে বিতর্ক, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে তোলপাড়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান
Dhaka’s Rising Heat: A Crisis of Urban Planning
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা