ভাঙল মিলনমেলা, বই প্রকাশ ও বিক্রিতে রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ২২:২৫ | প্রকাশিত : ০২ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৩
ফাইল ছবি

শেষ হলো বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। এক মাস দুই দিনে এবারের মেলা বই প্রকাশ ও বিক্রিতে রেকর্ড করেছে। 

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় চার হাজার ৮৩৪টি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। গত বছরের মেলায় নতুন বই প্রকাশ পেয়েছিল চার হাজার ৫৯০টি। এ বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা ২৪৪টি বেড়েছে।

অন্যদিকে মেলায় এবার এক মাস দুই দিনে ৮০ কোটি টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। গত বছরের মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার। গত বছরের মেলার চেয়ে এবার সাড়ে সাত কোটি টাকা বিক্রি বেড়েছে।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিন মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এবার সিটি নির্বাচন এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেলা দুই দিন বাড়ানো হয়। শনিবার রাত নয়টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার পর্দা নামে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ বার্তা সংস্থা বাসসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বই প্রকাশ ও বিক্রিতে রেকর্ডের কথা নিশ্চিত করেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে পুরো ফেবুয়ারি মাসের ২৮ দিন মেলা চলে। তবে প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ মার্চ পর্যন্ত মেলা সময় বর্ধিত করেন।

এবারের মেলায় বাংলা একাডেমির বই বিক্রি হয়েছে দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকার। প্যাভিলিয়ন ছিল ২৪টি। একটি বাদে ২৩টি প্যাভিলিয়নে কোটি টাকার উপরে বই বিক্রি হয়েছে বলে জানান জালাল আহমেদ। এ ছাড়া তিনটি প্যাভিলিয়নে দুই কোটি টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে বলে জরিপকর্মীরা তথ্য দিয়েছেন। এবার মেলায় সর্বমোট ৭১৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ৭৭০টি ইউনিট স্টল ছিল।

মেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের ওপর এবার জরিপ করেছে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে। কমিটির পক্ষ থেকে একাডেমির কাছে পেশ করা তথ্যে জানা যায়, এবার মেলায় ১১৫০টি মানসম্মত বই প্রকাশ পেয়েছে। যে বইগুলোকে জরিপকর্মীরা উন্নতমানের বলে অভিমত রেখেছেন।

মেলা উপলক্ষে গঠিত টাস্কফোর্স মেলায় অভিযান পরিচালনা করে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান নোটিশের জবাব না দেয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের স্টলটি একদিন বন্ধ রাখার শাস্তি প্রদান করা হয়।

জালাল আহমেদ মেলা সম্পর্কে বলেন, এবার মেলা ছিল অসাধারণ। মেলার মূল থিম ‘ বিজয় ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ : নবপর্যায় ’কে কেন্দ্র করে মেলা ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর। স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মেলার পরিবেশ ছিল অন্যান্য বারের চেয়ে নান্দনিক ও শোভিত। অন্যান্য সব ব্যবস্থা ছিল লক্ষ্যণীয়। নতুন নতুন আয়োজনও ছিল। সব মিলে এবারের মেলা সফলভাবে শেষ হলো বলে তিনি অভিমত রাখেন।

বাংলা একাডেমির এই কর্মকর্তা জানান, মেলায় এবার নিরাপত্তা কাজে বিভিন্ন বাহিনীর ১২শ’ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় রেখেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এক মাস দুই দিনে ৮২৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে তিন হাজারেরও বেশি লোক অংশ নেন। ৩০দিনে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে ৩১০ জন প্রবীণ, নবীন, তরুণ লেখক, প্রকাশক ও সাহিত্যিক তারা তাদের নতুন বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হন।

(ঢাকাটাইমস/০২মার্চ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :