শিশু ‘ধর্ষণ’, এরপর ‘হত্যাচেষ্টায়’ ইমাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৯ | প্রকাশিত : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৯

নারায়ণগঞ্জে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর একটি মসজিদের ইমাম তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আটকও করা হয়েছে অভিযুক্ত ইমাম ও তার সহযোগীদের।

বুধবার সকালে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এদেরকে। আটকরা হলেন, মসজিদের ইমাম নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সরাপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম, তার সহযোগী রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী ওরফে হবি, মোতাহার হোসেন ও শরিফ হোসেন। 

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) আলেপ উদ্দিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটি নারায়ণগঞ্জের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

র‌্যাব জানায়, মঙ্গলবার রাতে বোরকা পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তি তাদের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ দেন যে, তার মেয়ে মসজিদের ইমামের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধর্ষণের পর ইমামের অনুসারীরা তার মেয়ে ও তাকে মেরে ফেলার জন্য হাসপাতালে গিয়ে খুঁজছে। পরে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

নির্যাতনের শিকার শিশুটির বয়স আট বছর। সে মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত। কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ার পর তার বাবা জানতে পারেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া দেন।

শিশুটির বাবা ইমামের কাছ থেকে ঝাড়ফুঁক পরিয়ে নেয়। কিন্তু লাভ হচ্ছিল না। পরে ইমাম ফজলুর রহমান শিশুটির বাসায় যান। সেখানে ‘বাড়ি বন্দি’ নামে আরেক দফা ঝাড়ফুঁক করে আসেন। এরপর মেয়েকে নিয়ে ফজরের আযানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে যেতে বলেন।

পরদিন সকালে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে চলে যান বাবা। আর নামাজের পর বাবা ও মেয়ে যান মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমামের কক্ষে। হালকা ঝাড়ফুঁক করে বাবাকে  এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেন ইমাম।

কিন্তু সে সময় দোকান খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা মোমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না। এর মধ্যে সময়ক্ষেপণ করার জন্য ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে পান আনতে বলেন। আর মোয়াজ্জিনকে ফোন করে নিচের গেটে তালা লাগিয়ে দিতে বলেন।

এর মাঝে  শিশুটির দুই হাত পেছনে বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করেন বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। আর প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দেন। সেই সেঙ্গ শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেন। বলেন, বললে জবাই করে ফেলবেন।

শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন ইমাম। ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু হয়। পরে বিষয়টি শিশুটি তার বাবা মাকে খুলে বলে। পরে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটি ও অভিযুক্ত ইমামভক্তরা শিশু ও তার পরিবারকে হেনস্থা করে। পরিবারটি যেন থানা বা হাসপাপতালে যেতে না পারে সে ধরনের পরিস্থিতিও তৈরি করে তারা।   

শিশুটির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকলে তাকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু খবর পেয়ে ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করতে সেখানেও হানা দেয়। ইমামের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে শিশুটিকে সেখানকার টয়লেট ও শয্যার নিচেও লুকিয়ে থাকতে হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৭আগস্ট/এসএস/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :