গতবার ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৯, ২২:২৭ | প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫২

সংগ্রহ পর‌্যায়ে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় গতবার ৩৫ শতাংশ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়েছে।  ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা বকেয়া পরিশোধ না হওয়া এটাও একটা কারণ বলে দাবি করছেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্যাহ।  তাই চামড়া ছাড়ানোর ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাতে লবণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে এবারের ঈদুল আজহায় এক কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবারও একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সাধারণত আগেরবারের চেয়ে পাঁচ-ছয় শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। কিন্তু এবার না বাড়ানোর কারণ হিসেবে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা ধারণা করছেন বন্যার কারণে এবার পশু কোরবানি কম হতে পারে।

গতবারের বকেয়া পাওয়ায় মূলধনের অভাব চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কম ধরার আরও একটি কারণ বলে জানান দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা গতবারের পেমেন্ট এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করেনি। দু-একটি ট্যানারি শতভাগ পেমেন্ট দিয়েছে। আর সাত থেকে নয়টি ট্যানারি ৭০ শতাংশ পেমেন্ট দিয়েছে। বাকি ৮০-৯০টি ট্যানারি গতবারের বকেয়া টাকা দেয়নি।’

দোলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মূলধন সংকটের জন্য এক অর্থে গত বছরের চেয়ে এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম। ফড়িয়ারাও মূলধন সংকটে আছেন। তাই এ বছর আমরা এক কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি।‘

প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে ঋণ দিচ্ছে সরকারি চার ব্যাংক। ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলো। স্বল্পমেয়াদি এ ঋণ বিতরণ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংক।

এ টাকার বেশির ভাগই গতবারের বকেয়া পরিশোধ করতে চলে যায় বলে জানান  মন্তব্য করেছেন সাখাওয়াত উল্যাহ।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্যাহ ঢাকাটাইমসকে বলেন, তারা সাধারণত কোরবানির আগেই বকেয়া টাকা বেশির ভাগ দিয়ে দেন। তবে এবার ট্যানারি মালিকরা সব টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। তার দাবি, গতবার সংগ্রহ পর্যায়ে সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ না হওয়ায় ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে।

সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ‘কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ না করায় ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো বিক্রি করা যায়নি। আর বিক্রি করলেও ভালো দাম পায়নি। তাই কিছু ট্যানারি মালিক সব টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।’

এবার গরমের তীব্রতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারীদের সতর্ক করছেন চামড়ার নষ্ট হলে এর দায় তারা নেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ থাকবে চামড়া ছড়ানোর ছয় ঘণ্টার মধ্যে লবণ মাখিয়ে দিতে হবে। তা না হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। আর এ জন্য এর দাম না পেলে দায়ভার আমরা নেব না। এবার গরম পড়েছে। তাই দ্রুত কাঁচা চামড়ায় লবণ মাখিতে দিতে হবে।’  

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (খামার) এ বি এম খালেদুজ্জামানের তথ্যমতে, গত বছর এক কোটি ১৫ লাখ পশু জবাই হয়। এর মধ্যে গরু-মহিষ  সাড়ে ৫৪ লাখ, আর ছাগল ও ভেড়া ৫১ লাখের বেশি। এবার গতবারের চেয়ে পাঁচ শতাংশ চাহিদা বেশি ধরেছেন তারা। তাতে এক কোটি ১১ লাখ থেকে এক কোটি সাড়ে এগারো লাখ হবে।

এদিকে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম গত বছরের হার অপরিবর্তিত রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির কাঁচা চামড়ার মূল্য সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির কাঁচা চামড়ার মূল্য সারা দেশে ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির সময় চামড়া ছাড়ানোর সময় অসতর্কতা বা না-জানার কারণে বছরে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়।

 (ঢাকাটাইমস/১১আগস্ট/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :