বাসেত মজুমদার আইনজীবীদের পরম বন্ধু: প্রধান বিচারপতি

প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, তিনি আইনজীবীদের পরম বন্ধু। জুনিয়র আইনজীবীদের তিনি যতটা সহযোগিতা করেন এরকম আর কাউকে দেখেননি বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।
বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের ৮২তম জন্মদিনে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাসেত মজুমদারের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উনি (বাসেত মজুমদার) যখন আমার চেম্বারে যান তখন আমি উনার সঙ্গে আগের সম্পর্কের মতো কথা বলি। আমি প্রধান বিচারপতি বা উনি একজন আইনজীবী এই ধরনের কোনো সম্পর্ক আমাদের থাকে না।’
‘উনি আমার অনেক মামলা শুনানি করে দিয়েছেন। আমিও উনার অনেক মামলা করেছি। কারণ উনি অনেক ব্যস্ত ছিলেন যে উনার কোর্টে মামলা করার সময় ছিল না। কারণ উনার মোশনে উনার সমস্ত সময় চলে যেত।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একদিন তিনি আমাকে বললেন, তুমি এক কাজ করো। আমার সিভিল মামলাগুলো তুমি শুনানি করে দিও। আমি বললাম কোনো অসুবিধা নেই। উনি আমাকে নিয়ে যেতেন কোর্টে। কোর্টে গিয়ে বলতেন মাইলর্ড, সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম, প্রয়োজনে হলে আমি আসবো।’
‘তারপরে আমি মামলার আর্গুমেন্ট করে শেষ করে দিয়েছি। মামলার জাজমেন্ট হয়েছে পরে আমি খবর দিয়েছি যে জাজমেন্ট হয়েছে। উনি বলতেন খুব ভালো, খুব ভালো। এই রকম সম্পর্ক ছিল তার সঙ্গে।’
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘তিনি যখন অসুস্থ ছিলেন তখন আমি তার বাসায় গিয়েছি। খুব অসুস্থ দেখেছি। আমার মনে হয় যে, তার স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুর থেকেও আমাকে কয়েকবার টেলিফোন করেছেন। তার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক সেটি আজীবন থাকবে।’
প্রবীণ এই আইনজীবীর প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জুনিয়র আইনজীবীদের তিনি যেভাবে হেল্প করেছেন অন্য কোনো আইনজীবী এরকমভাবে হেল্প করেছেন বলে আমি দেখিনি। তিনি জুনিয়র আইনজীবী কত টাকা ফি দিয়েছে সেটি কোনোদিন গুনে দেখেননি।’
প্রধান বিচারপতি আব্দুল বাসেত মজুমদারের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
‘সবাই যখন চুপ তিনি আমার মুক্তি চেয়েছেন’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও ফেনীর সাবেক সাংসদ জয়নাল হাজারী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন, ‘কারাগারে থাকার সময় যখন আমার মুক্তির বিষয়ে কেউ মুখ খুলেনি, কোনো মন্তব্য করেনি, সে সময় সাহস করে আমার মুক্তির কথা বলেছিলেন আব্দুল বাসেত মজুমদার।’
জয়নাল হাজারী বলেন, ‘তখন দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে যখন কেউ কারো বিষয়ে মন্তব্যই করত না, তখন আমার বিষয়ে এই বাসেত মজুমদার সাহস নিয়ে কথা বলেছেন।’ এজন্য বাসেত মজুমদারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল হোসেন, কেএম হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। এছাড়া আইনজীবীদের মধ্যে বাসেত মজুমদারকে শুভেচ্ছা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ চন্দ্র কর প্রমুখ।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন বারের আইনজীবী নেতারা বাসেত মজুমদারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সবশেষ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
(ঢাকাটাইমস/০১জানুয়ারি/এআইএম/জেবি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































