ডাক্তার নার্সদের ঝুঁকিভাতার প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৮:১৫ | প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল ২০২০, ১৪:২৫

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ঝুঁকিভাতার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। গত ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ দিয়ে, জীবন বাজি রেখে কাজ করেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশ্বের অনেক দেশেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে সেরকমটা হয় না বলে জানা গেছে। তবে এবার প্রচণ্ড সংক্রামক করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারিতে চিকিৎসাসেবায় সংশ্লিষ্টদের জন্য ঝুঁকিভাতা চাওয়া হলো। সেবায় নিয়োজিতরা বলছেন, এরকম ভাতা দেয়া হলে সবাই আরও বেশি সেবায় মনোযোগী হবেন, স্বস্তিতে কাজ করবেন। কারণ, সবারকেই তার পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাবতে হয়।

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি আবু ইউসুফ ফকির ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে বলেছিল। তবে কবে দেবে, কত টাকা দেবে সেটা নিশ্চত নয়। শুনেছি একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তার আপডেট তথ্য জানি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনে করি শুধু ডাক্তার নার্স নয় সব পেশার মানুষ যেমন পুলিশ সাংবাদিক বা যে কোন মানুষদের ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা রাষ্টের করা উচিৎ। রাষ্ট্র যদি এসব ক্ষেত্রে জন প্রতি এক থেকে দুই কোটি টাকা ১৮ বছরের এফডিআর করে দেয়। আহলে ওই পরিবারটি আর্থিক নিশ্চয়তা পেল। এতে করে যে কোন মানুষের কাজের প্রতি আন্তরিকতা বাড়বে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম নাসির উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা এখনও পর্যন্ত কোনোঝুঁকি ভাতার কথা আমি শুনি নাই। তবে আমাদের এখানে কেরোনা সংক্রান্ত যত রোগী আসছে আমরা তাদেরকে কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করি দেখি। যদি করোনায় আক্রান্ত মনে হয় তবে দ্রুত ওই রোগীকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক ডা. আমিনুল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঝুঁকিভাতার কথা দেওয়ার আলোচনা করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে এমন ভাতার বিষয়টি জানেন না বলে জানালেন বাংলাদেশ নার্স অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন পাটোয়ারী। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, 'কোনো ঝুঁকিভাতার খবর শুনি নাই। তবে নার্সদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের পিপিই পেয়ে গেছি। আমাদের এখানে ২২০০ নার্সই পিপিই পেয়েছেন। '

গত ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পর্যন্ত রাজধানীতে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা দেয়ার জন্য ১০টি হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলেছেন। এসব হাসপাতালগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, যাত্রাবাড়ীতে সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মিরপুর মেটারনিটি হাসপাতাল, নয়াবাজারে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, কমলাপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল, উত্তরায় কুয়েত মৈত্রী ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যপারে যাত্রাবাড়ী ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ডা. আসাদুজ্জামান ঢাকা টাইমসকে বলেন, যাত্রাবাড়ী ফাউন্ডেশন হাসপাতালে কোনো রোগীকে শনাক্ত করা হলে আমরা তাৎক্ষণিক আইইডিসিআরে ফোন করে জানাই। পরে তারা ওইসব রোগীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। তবে আমরা এখনও পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি ভাতার খবর শুনি নাই।

বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঝুঁকিভাতার ব্যাপারে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বলেছি। শুনেছি ওনারা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে সেটা আপডেট তথ্য জানি না।

১০ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কথা বলা হলেও সবাই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো কথা বলছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লোরা ঢাকাটাইমসকে বলেন, সব জায়গায় না ছড়িয়ে আমরা এক জায়গায় রাখার চেষ্টা করছি। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আমরা ২০০ বিছানা প্রস্তুত রেখেছি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশে ২০০ রোগী নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ) ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ঝুঁকিভাতা বা বিশেষ ভাতার নাম করে একটি প্রস্তবনা আমরা গত ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে পরবর্তী কাজ করবেন। কত টাকা ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মনজুর রহমান বলেন, বেসিকের সমপরিমাণ টাকা দেওয়ার কথা আমরা প্রস্তাবনায় বলেছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, এটার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। দেশের এখন ক্রান্তিকালে সময়ে তাঁরা সবাইকে কাজ করছে। এটাকে টাকা দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মোটিভাইট করে কাজটা করিয়ে নেওয়া। তবে এটা দেওয়া উচিত কারণ সবারই তো পরিবার আছে নিজের জীবনের মায়া আছে।

ঢাকাটাইমস/০১এপ্রিল/মার্চ/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :