বিশেষ সাক্ষাৎকারে দুদক চেয়ারম্যান

‘দুর্যোগকালীন দুর্নীতিবাজদের চরম শিক্ষা দেব’

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:৩৩ | প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:১৩

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন রক্ষার সামগ্রী নিয়ে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম করছে তাদের চরম শিক্ষা দেওয়া হবে। দরিদ্র, অসহায় মানুষের ত্রাণ সামগ্রীর চাল চুরি করে কেউ পার পাবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন সারা দেশে কঠোরভাবে নজরদারি করছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ চলমান আছে। দুর্নীতিবাজদের জন্য চরম পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে দ্ব্যর্থহীনভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইকবাল মাহমুদ।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে বিশেষ একান্ত সাক্ষাৎকারে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার ওপরে এই মুহূর্তে তারা বিশেষ নজর দিচ্ছেন। করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জামাদি কেনাকাটা নিয়ে নয়ছয় করে রেহাই পাওয়া যাবে না। দুদক তৎপর, ভেতরে ভেতরে সক্রিয় এবং কার্যকর ফলাফল নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দৃশ্যমান হবে বলে জানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে দেশের মানুষের বিশেষ আস্থার জায়গা তৈরি করা ইকবাল মাহমুদ।

দুদক চেয়ারম্যানের সাফ কথা, দুর্যোগকালীন দুর্নীতিবাজদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। দুর্নীতিবাজ যেই হোক ধরা খাবেই এবং কঠিন বিচারের সম্মুখীন হবে। এই বার্তা দুদকের সব পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সেভাবেই দুদকের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

ঢাকা টাইমস সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রাণের চাল চুরি, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ নিয়ে অনিয়ম, স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়ম, স্বাস্থ্যখাতের সাম্প্রতিক ও অতীত বিভিন্ন কেনাকাটা নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে তাদের অবস্থান, গৃহিত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে।

ঢাকা টাইমস: সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিম্নমানের চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে মর্মে গণমাধ্যমে নানা খবর আসছে। দুদক বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে?

দুদক চেয়ারম্যান: দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সব সময়ই আছে, থাকবে। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, সুরক্ষা সামগ্রীর বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ওপর আমাদের কড়া দৃষ্টি রয়েছে। এসব মানসম্মত না-কি মানহীন সেটি বিশেষজ্ঞরা বলবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, ব্যাখ্যাও দেবে। তবে আমরা খোঁজ খবর রাখছি। আমাদের গোয়েন্দা দল তাদের কাজ করছে। দুর্নীতি হলে পার পাবেনা কেউই।

ঢাকা টাইমস: ত্রাণের চাল চুরির সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে আপনাদের বার্তা কী?

দুদক চেয়ারম্যান: দরিদ্রদের খাদ্য, চাল চুরির সঙ্গে যারাই জড়িত তারা আসলে দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। সংখ্যায় সেটি যত নগণ্যই হোক না কেন। এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দারা সারা দেশে তথ্য সংগ্রহ করছে, সবভাবে তৎপর আছে। দুর্যোগের সময় মানুষের ত্রাণ নিয়ে যারা দুর্নীতি করছে, করবে তারা চরম শিক্ষা পাবে দুদক থেকে।

ঢাকা টাইমস: যেসব চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং এই সময়ে বাড়ির মালিক পক্ষের হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে দুদক কি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে?

দুদক চেয়ারম্যান: আমরা গোটা বিশ্ববাসীই একটা ক্রান্তিকাল পার করছি এখন। আর এই সময়ে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষেরা জীবন রক্ষার জন্য জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন। তাই তাদের সাথে যদি কোনো অমানবিক আচরণ হয় এবং কোনো বাড়ির মালিক তা করে থাকেন, আমরা খতিয়ে দেখবো সংশ্লিষ্টরা কিভাবে বাড়ির মালিক হলেন। আশাকরি প্রত্যেক বাড়ির মালিক শতভাগ মানবিক আচরণ করবেন।

ঢাকা টাইমস: এই মুহূর্তে দুদক কিভাবে সক্রিয় আছে?

দুদক চেয়ারম্যান: আগেই বলেছি, আমাদের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে। দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঢাকাসহ সারা দেশে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ও সীমিত পর্যায়ে খোলা রয়েছে। কারণ মামলা হচ্ছে এবং আরো মামলার প্রস্তুতি কাজও চলমান।

ঢাকা টাইমস: স্বাস্থ্যখাত এই সময়ে সবচেয়ে আলোচিত এবং এই খাতে সরকারি বিনিয়োগ নিয়ে দুর্নীতিও বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসে। দুদকের পদক্ষেপ কি ওইসব দুর্নীতির কর্মকাণ্ডে?

দুদক চেয়ারম্যান: সকল দুর্নীতির মতো স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের কর্মকাণ্ড চলমান আছে। যেসব আমাদের নিয়মিত কাজ এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ওইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক সক্রিয় আছে। অনেক অগ্রগতি আছে এসব কাজে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মামলা হয়েছে, আরও বেশ কিছু মামলা হবে। কেউ কেউ পালিয়েছে। দেশের বাইরে ঘাপটি মেরে আছে। আমরা রেড অ্যালার্ট জারি করেছি। ইন্টারপোলকে বলেছি। আবার দেশের ভেতরে থাকা অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। অফিস খুললে নিয়মিত কর্মকাণ্ড শুরু হলে আরও অনেক অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

ঢাকা টাইমস: দুদক কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে?

দুদক চেয়ারম্যান: আমরা শতভাগ আন্তরিক আমাদের কাজে। দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে দুদকের ভূমিকা এখন দৃশ্যমান, অধিক কার্যকর। দুর্নীতিবাজদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পেরেছে দুদক। আমরা সর্বদা সচেষ্ট আছি। সামাজিকভাবে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করতে হবে। সচেতন হতে হবে প্রত্যেক নাগরিককে। দুর্নীতিকে না বলতে হবে প্রত্যেকেরই। দুদক সবরকমভাবে এখন তৎপর এটুকু বলতে পারি। দুদক দুর্নীতিবাজকে দুর্নীতিবাজ হিসেবেই দেখে। দুর্নীতিবাজের অন্য কোনো পরিচয়কে আমরা প্রশ্রয় দিই না। দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে এটা আমাদের অনেক বড় শক্তি।

ঢাকা টাইমস: আপনাকে ধন্যবাদ।

দুদক চেয়ারম্যান: আপনাকে এবং ঢাকা টাইমসের সকল পাঠককে ধন্যবাদ। (ঢাকাটাইমস/২৪এপ্রিল/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :