গাজীপুরে আ.লীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা

ইফতেখার রায়হান, টঙ্গী (গাজীপুর)
 | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৮

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ। নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটিতে জায়গা পাওয়া এবং পদবঞ্চিতদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ৩৯টি ওয়ার্ডের আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে লাগাতার বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

এরই মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শনিবার নবগঠিত ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন আনন্দ মিছিল করার জন্য। একই দিন ঘোষিত কমিটিকে 'অবৈধ ও পকেট কমিটি' আখ্যা দিয়ে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়াও নগরীর গাছা থানা ও সদর থানা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করবেন আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার একই সময়ে আনন্দ মিছিল এবং বিক্ষোভ মিছিল হলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে জানিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আজাদ মিয়া বলেন, আশা করি- উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ১৮ বছর পর ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে যারা পদ পেয়েছেন তাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করছে। শনিবার তারা ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড পার্টি, রঙসহ নানাভাবে আনন্দ মিছিলের আয়োজন করছেন। তবে প্রায় প্রত্যেকটি কমিটির একাধিক যুগ্ম আহবায়ক ঘোষিত কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের জন্য পরিশ্রম করেছেন তাদের বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত থেকে আগত নব্য ও হাইব্রিড নেতাদের দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই তারা শনিবার আনন্দ মিছিলে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৫৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, এই পকেট কমিটির প্রতি আমরা অনাস্থা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করব। কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে কমিটি ঘোষণা না করা পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

৫৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর সেলিম মিয়া জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর কমিটি ঘোষণার পর থেকে আমরা লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছি। শনিবারও আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। এই কর্মসূচি কমিটি স্থগিত না করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, শনিবার বিকালে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পকেট কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। বিক্ষোভ মিছিলে সকল ওর্য়াডের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

অপরদিকে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শনিবার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আনন্দ মিছিল করবে নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা। টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল সম্পর্কে আমার জানা নাই।

এদিকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন সভা ডাকতে হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ অথচ সাধারণ সম্পাদক জানেন না। মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার আনন্দ মিছিল হবে এবং সে লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :