ইফতারি সমস্যা না সমস্যা অন্য জায়গায়!

আবু বকর সিদ্দিক
 | প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২২

আমার এলাকার লোকজন রমজান মাস এলেই একটা বিষয় নিয়ে খুব বেশি কনসার্ন হয়ে পড়ে। সেটা হলো ইফতারি বা অনেকে নাইওরি ও বলে থাকেন। অনেকেই হায় হুতাশ করে চিল্লাফাল্লা করে ভাই নাইওরি কেন দেওয়া হবে! মানুষ খাইতে পারে না কিন্তু এই অস্থির সময়ে কেন ইফতারি দেওয়া হবে!

আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। আপনার চিন্তাভাবনার সাথে সম্মান রেখেই বলছি এই যে,আপনারা শত শত মানুষ একটা মেয়ের বাবার উপর বিবাহের সময় সেন্টার ভর্তি লোকজন পেট ভোজন করে আসেন! তখন আপনাদের কনসার্ন কোথায় থাকে!

সমাজ ঠিক করবেন। ভালো কথা। আগে আসল জায়গায় হাত দিন। আসল জায়গায় হাত না দিয়ে ভুল জায়গায় চিকিৎসা করালে তো কোনো ফল হবে না।

আপনারা যখন থেকে ইফতারি নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু করছেন। আমি এরও অনেক আগ থেকেই আমাদের এলাকার বিবাহের সিস্টেম নিয়ে আলাপ করছি। আমি বারবার বলছি আমাদের সমাজ কিংবা আমাদের এলাকায় বিবাহের নামে যে তামাশা শুরু হয়েছে সেগুলো থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আমাদের কানাইঘাটে বিবাহের নামে যে অপসংস্কৃতি বা বেহাল্লাপনা শুরু হয়েছে সেগুলো থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসা অতিব জরুরি।

এই যে সুশীল সমাজ! আপনারা শত শত লোক নেহায়েত একটা মেয়ের বাবার উপর বিবাহের সময় সেন্টার ভর্তি লোকজন পেট ভর্তি খাবার খেয়ে আসেন তখন আপনাদের কি লজ্জা করে না! আপনাদের শুধু ইফতারি দেখলেই লজ্জা লাগে! আপনারা যে দিদারসে দেখেন সোসাইটিতে দিব্যি যৌতুক প্রথা জারি রয়ে গেছে তখন আপনাদের লজ্জা লাগে না!

বৌরাতীর নাম করে ৫০০ লোক আরেকটা মেয়ের বাপের ৩-৪ লাখ টাকা এক ঘন্টায় সাবাড় করে আসেন তখন লজ্জা লাগে না! শুধু ৫০০ টাকার ইফতারি দেখলেই লজ্জা লাগে! এলাকা নিয়ে আপনার কনসার্ন হয়! বাহ রে!

সুশীল ভন্ড সবাই যে একসাথে গিয়ে বিবাহের মঞ্চে পেট ভর্তি করে ছবি ঊঠান তখন লজ্জা লাগে না। আরেকজন মেয়ের বাবার উপরে হাজার খানেক লোকজন গিয়ে দিব্যি খাবার খেয়ে আসেন যা অবশ্যই অনৈতিক এবং ইসলামেও এইসব নিয়ে কোনো যৌক্তিকথা নেই!

সমাজ ঠিক করবেন! গোড়ায় হাত দেন ভাই। দিব্যি তামাশা করবেন! কনসার্ট করে বিয়াশাদী করবেন। হাজার খানেক লোকজন নিয়া সেন্টার ভর্তি করে খাবার খাবেন আবার সাথে যৌতুকও নিবেন! এর পরে বলবেন এই সমাজের পরিবর্তন চাই!

আরে ভাই সমাজ পরিবর্তন করা এতো সোজা না। তোমার বাপের টাকায় সমাজ চলে না। তোমার ফেসবুক স্ট্যাটাস সমাজ কেয়ার করে না। সমাজ চলে তার নিজস্ব গতিতে!

ইফতারি নিয়া চিল্লাফাল্লা না করে সাহস থাকলে আসল বিষয়ে কথা বলেন। আসল অপরাধকে প্রমোট করে আসছেন ছোটখাটো ব্যাপার নিয়া আলাপ জমাইতে!

বলে রাখা ভালো কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য বা কাউকে এট্যাক করার জন্য এই লেখাটা না। শুধুমাত্র আপনাদের চোখ খুলে দিতে এই লেখা। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। খোশ আমদেদ মাহে রমজান।

লেখক: সংগঠক ও লেখক

ঢাকাটাইমস/১৫এপ্রিল/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

পাঠকের অভিমত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :