এখন সুফল পেতে কারফিউ দিতে হবে

সৈয়দ ঋয়াদ
| আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ১৬:৫৮ | প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০২১, ১৫:৪৬

কল-কারখানা, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠানসহ নিত্যপণ্যের দোকানপাট খোলা রেখে লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে দেশের করোনা পরিস্থিতি সামনে আরও খারাপ হতে পারে। তাই করোনার লাগাম টানতে এখনই দুই সপ্তাহের জন্য বাস্তবিক অর্থে লকডাউন দিতে হবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। জনগণকে এ লকডাউন মানাতে তিনি সরকারকে প্রয়োজনে কারফিউ জারি করার পরামর্শ দেন।

বুধবার ঢাকাটাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের উদ্দেশে এমন পরামর্শ দিয়েছেন। মুঠোফোনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ।

এক দিনে করোনায় মৃত্যু ২০০ পার হলো। পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে যাচ্ছে?

করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের একটি অন্যতম বিষয় হলো লকডাউন। বর্তমানে আমরা লকডাউনের ভেতরে রয়েছি। কিন্তু সেটি আংশিক, পরিপূর্ণ লকডাউন আমরা দিচ্ছি না। কারণ এখন পর্যন্ত কল-কারখানা ও গার্মেন্টস থেকে শুরু করে খোলা রয়েছে কাঁচাবাজার। তারপর দোকান ইত্যাদি খোলা রয়েছে। ফুটবল ফেডারেশন তার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক-বিমা সবই কিন্তু খোলা। এর মানে সব মিলিয়ে এটা আংশিক লকডাউন।

লকডাউন তো দেওয়া হয় মানুষকে ঘরে আটকে রাখার জন্য, জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য। যেন একজন থেকে অন্যজনের শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করে সংক্রমণ না ছড়ায়। এই জায়গায় আমরা পরিপূর্ণ লকডাউন পালন করছি না।

দেশে তো কঠোর বিধিনিষেধ চলছে...

লকডাউন দিয়ে বসে থাকলেই তো হবে না। লকডাউন দেওয়ার পরে সারা দেশে যেখানে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, সেখানে টেস্টের একটা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সেই টেস্ট করে কার কার শরীরে ভাইরাস আছে, তাদের আলাদা করে ধরন অনুসারে কাউকে কোয়ারেন্টিন, কাউকে আইসোলেশনে বা কাউকে প্রয়োজনে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হবে। আমরা কিন্তু টেস্টের সংখ্যা খুব একটা বাড়াইনি। আগে থেকে আমাদের টেস্টের সামর্থ্য ছিল ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার। কিন্তু এখন আমাদের ল্যাব বেড়েছে বহু গুণ। আমাদের উচিত ছিল অন্তত এক থেকে দেড় লাখ লোককে প্রতিদিন পরীক্ষা করানো। কিন্তু আমরা সেটা এখন করতে পারছি না।

দ্বিতীয়ত, আমাদের অক্সিজেনটা উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু সেই অক্সিজেন সরবরাহ, বিতরণ বা রিফিল করার জন্য দ্রুত যে ব্যবস্থা, সেটা আমরা করতে পারছি না। কারণ আমাদের প্রশিক্ষিত জনবল কম। আমার দেখছি নানা জায়গায় অক্সিজেনের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে সেখানে ১৪২টি রেড ও ইয়েলো করোনা বেড রয়েছে। সেখানে গত ৪ তারিখে ২১৬ জন রোগী ভর্তি। ২১৬ জন রোগীর জন্য এক শিফটে আট ঘণ্টার জন্য একজন চিকিৎসক।

একজন চিকিৎসক যদি প্রত্যেক রোগীর কাছে তিন মিনিট করে সময় দেন তাহলে তার কত সময়ের প্রয়োজন? এটা কি মানবিকভাবে সম্ভব? আর সেই হাসপাতালে বদলিকৃত নামের তালিকায় তিন ধরনের ডাক্তারের নাম ছিল। একজন জীবিত ও কর্মরত ডাক্তার, একজন জীবিত এবং অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার অন্যজন মৃত ডাক্তার। তার মানেটা কী? আজকে পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হ য ব র ল অবস্থা, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

আর টিকা না আসার আগ পর্যন্ত মাস্ক সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা। কিন্তু আজকে পর্যন্ত শতভাগ মাস্ক পরাটাই নিশ্চিত করা যায়নি। প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিলেই তো সব কাজ হয়ে যায় না। বলা হচ্ছে মানুষ মাস্ক পরছে না। কেন পরছে না সেই সম্পর্কে কি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে জনসাধারণকে এসব বিষয়ে যুক্ত করার জন্য। এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে একটি ন্যূনতম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে? কিছু জায়গায় ব্যক্তি বা সাংগঠনিকভাবে করা হয়েছে।

আমাকে দেখান জাতীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগ হোক, জাতীয়তাবাদী দল হোক, জাতীয় পার্টি বা কমিউনিস্ট পার্টি হোক- এরা করোনায় কি অবদান রেখেছে? কতটা কাজ করেছে? তাদের একটি বড় অংশই কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কেন তাদের কোনো কাজ নেই?

তাহলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কী?

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দুই সপ্তাহের লকডাউনের কথা বলছি। আমি লকডাউন থেকে আবার লকডাউনের কথা বলছি। এই সময়ে কারফিউ দিয়ে সবাইকে একদম ঘরে আটকে রাখার কথা বলব। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়টাতে মানুষকে দুই সপ্তাহ ঘরবন্দি রাখতে হবে। যেসব পরিবারের করোনা সংক্রমণ হয় সেসব পরিবারের বাজারের কিংবা ওষুধ সরবরাহ করতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে কাজ করতে হবে। এটাকে আমি বলি গণতদারকি কমিটি। এরা প্রতিটি ওয়ার্ড, বাড়ি ধরে ধরে কাজ করবে।

এ ছাড়া মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক ছাড়া বের হওয়া যাবে না। যাদের মাস্ক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের মাস্ক দেওয়া হোক। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই মাস্কগুলো সরবরাহ করা হোক। একই সঙ্গে যেসব পরিবারে খাবারের অসুবিধা তাদের প্রয়োজনমতো খাবার সরবরাহ করতে হবে।

আপনি এখন যেটাকে আংশিক লকডাউন বলছেন সেটার সুফল কবে নাগাদ আসতে পারে?

সর্বাত্মকভাবে লকডাউন না করলে আমরা খুব বেশি সুফল পাব না। কারণ এই মুহূর্তে আমরা গত বছরের মতো ভালো অবস্থানে নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পরিপূর্ণভাবে কারফিউ ধরনের লকডাউন করলে তার সুফল পাওয়া যাবে।

(ঢাকাটাইমস/০৭জুলাই/বিইউ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :