বুধবার হোটেলে ওঠেন মেয়র শাহনেওয়াজ, সেবন করেন হেরোইন

বিজয় দিবসের দিন শিক্ষা কর্মকর্তাকে চড় মেরে হারান দলীয় পদ। বরখাস্ত হন মেয়র পদ থেকেও। সমালোচনার মধ্যে নিজেকে বাঁচাতে জামালপুর থেকে চলে আসেন ঢাকায়। গতকাল রাতে ওঠেন উত্তরার ‘হোটেল ডি মেরিডিয়ানে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই মাদকসহ ধরা পড়েন র্যাবের জালে।
বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলটি থেকে আটকের সময় শাহনেওয়াজের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও সাড়ে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করে র্যাব।
এলিট ফোর্সটি ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, নিজেকে গোপন করতে বুধবার রাতে হোটেলটিতে ওঠেন দেওয়ানগঞ্জের বরখাস্ত হওয়া এই পৌর মেয়র। নিয়মিত মাদক সেবন করা শাহনেওয়াজ গতরাতেও সেবন করেন হেরোইন। হোটেলের যে কক্ষে ছিলেন আটকের সময় সেখান থেকে জব্দ করা হয় গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল।
র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, বরখাস্ত হওয়া এই মেয়র প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করতেন। বিশেষ করে হেরোইনে বেশি আসক্তি ছিলেন। গতরাতেও হেরোইন সংগ্রহ করে সেবন করেছিলেন। আটকের সময়ও তাকে নেশাসক্ত দেখা গেছে।
আটক শাহনেওয়াজকে এখন র্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সংবাদ ব্রিফিং করে তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে এলিট ফোর্সটি।
গত ১৬ ডিসেম্বর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সরকারি হাইস্কুল মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাপ্পড় মারেন মেয়র শাহনেওয়াজ। পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় নামের সিরিয়াল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ এরপর থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এ ঘটনায় তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে পৌর মেয়রের পদ থেকেও শাহনেওয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
ঢাকাটাইমস/২৩ডিসেম্বর/এসএস/এমআর

মন্তব্য করুন