প্রশাসন সহযোগিতা করে না, আক্ষেপ আইভীর

মোমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ
 | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৯

দীর্ঘদিন থেকেই কোনো সহযোগিতা না পেয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য জোর করেই কাজ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন, সরকারি দপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো কিছুতেই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে না। এছাড়াও রাজউক ঢাকায় বসে যা ইচ্ছা তাই করছে বলেও মন্তব্য করেছেন এই মেয়র।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা শীর্ষক’ এক ভার্চুয়াল সংলাপে গত শনিবার আইভীর এমন মন্তব্যের পর পুরনো বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি নিয়ে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও কৌতুহল শুরু হয়েছে।

সড়কে যানজট, মামলা করেও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড বহালতবিয়তে, হকার্স মার্কেট করেও ফুটপাত দখল মুক্ত হয়নি। নদী বন্দরের তীরবর্তী জায়গায়গুলো বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা উচ্চ আদালত থেকে এলেও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া নেই। কেন সব কিছু জোর করে করতে হবে, এই বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আইভী।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহসভাপতি রফিউ রাব্বির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেও বলেছি। নারায়ণগঞ্জে যে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আছেন তারা শুধু শামীম ওসমানের কথাই শুনেন। এ কারণে সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীকে তারা কোনো সহযোগিতা করতে চান না। বিভিন্ন সময়েই তারা এমন অসহযোগিতা করে আসছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জে এসে তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন না করে কর্তৃত্ব বাহকের মতো কাজ করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, মেয়র মিটিং করলে আমি সেই মিটিংয়ে যাবো। এখানে মাঝামাঝি কোনো রাস্তা নাই। আমি ইতোমধ্যে মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তার সঙ্গে দেখা করার কথাও বলেছি।

মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের মিটিংয়ে এসেছিলেন। আমি বলেছি আপনারা (সিটি করপোরেশন) আমার মিটিংয়ে থাকবেন, আমিও আপনাদের মিটিংয়ে থাকবো। এখানে সমন্বয়ের বাইরে কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। সমগ্র পৃথিবীই এখন সমন্বয় করে চলছে। একক ক্ষমতা বলতে কিছুই নেই। সবাই মিলে কাজ করলেই পাওয়ারফুল হবে। আজকের (রবিবার) মিটিংয়ে আমি এই কথাই বলেছি। আমি জনগণের সেবক, সেবক হিসেবে যা করার দরকার সবই করবো।’

জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের এমন বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহসভাপতি রফিউ রাব্বি। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক নতুন এসেছেন। দেখতে চাই তিনি কী করেন এবং পরিবর্তন কী হয়।’

এবার সবকিছুরই পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। বিগত সময়ে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা না পেলেও এবারের নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হবে।

হকার সংঘর্ষের ঘটনার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় প্রশাসন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো। বিগত সময়ে যখনই নতুন প্রশাসন নারায়ণগঞ্জে এসেছে একটি মহল তাদের একমুখী করে ফেলতো। কিন্তু প্রশাসন কেন একমুখী হয়ে যেত বিষয়টি বোধগম্য নয়। কর্মকর্তারা সেবক, আসেন সেবা করতে। প্রধানমন্ত্রী তাদের পাঠিয়েছেন জনগণের সেবা করার জন্য। বিষয়টি নৈমিত্যিক বিষয় হয়ে উঠেছিল, যেখানে প্রশাসন একটি শ্রেণির কথায় আরেকটি শ্রেণিকে অসহযোগিতা করে।

জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘তিনি (জেলা প্রশাসক) মেয়রের প্রত্যেক সভায় উপস্থিত থাকবেন কথাটি বলেছেন, সেটি যেন কথায় থমকে না থাকে। আমরা আগামী দিনে নতুন জেলা প্রশাসকের এমন কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখতে চাই।’

নদীর তীরবর্তী ভূমিগুলো পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে হবে, উচ্চ আদলতের এমন নির্দেশনা বা আদেশ জারির পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই বিষয়েও মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর এমন মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন রফিউর রাব্বি।

রব্বি বলেন, এখানে অন্যান্য যে অধিদপ্তর বা সংস্থাগুলো রয়েছে তাদের পরিত্যাক্ত যে জায়গাগুলো রয়েছে সেগুলো জনগণের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হোক, এটি বহুবার বলেছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সেটা না করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ভূমিদস্যুর সঙ্গে আতাত করে বিক্রি-বরাদ্দ করছে। এই জায়গাগুলোতে বরাবরই একটি গোষ্ঠী থাকে। তারা সেখানে (সচিবালয়ে-মন্ত্রণালয়ে) সিটি করপোরেশনের কোনো কাজ বা প্রস্তাবনা যায় সেগুলোর বিরোধীতা করাই তাদের কাজ। ঘুম থেকে উঠেই গোষ্ঠিটির একটিই কাজ, সচিবালয়ে গিয়ে সিটি করপোরেশনের কী আছে সেটার ফাইল আটকানো। দীর্ঘ দিন থেকেই এমনটি হচ্ছে দেখে আসছি।

রফিউর রাব্বি বলেন, যারা ভোট ছাড়া জোর পূর্বক পাশ হয় তারাও জনপ্রতিনিধি। আর যারা মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয় তারাও জনপ্রতিনিধি। দুজনের মধ্যে পার্থক্য এতটুকুই। আমরা এবার চাচ্ছি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একই রকম প্রতিবন্ধকতা যাতে না আসে এবং সরকার শক্তহাতে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

নগরীতে অবৈধ বাস, লেগুনা ও টেম্পু চলছে। এমপির স্টিকার লাগিয়েই লেগুনাগুলো চলছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের।

(ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :