দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি: ‘সুশাসনের অভাব এবং সরকারি সংস্থাগুলোর অদক্ষতা দায়ী’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১৫:১৩ | প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১৫:০৫

পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, ‘কিছু অতিলোভী অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি করছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সুশাসনের অভাব এবং সরকারি সংস্থাগুলোর অদক্ষতা ও সমন্বয়হীনতা এর জন্য দায়ী।’

শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খলীকুজ্জমান।

খলীকুজ্জামান আহমদ আরও বলেন, ‘আসন্ন রমজানে পুন্য অর্জনের জন্য দ্রব্যমূল্য কমে আসার কথা। কিন্তু উল্টো কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৌশলের মাধ্যমে রমজানের আগেই বেশি দামে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে।

‘দেশে সম্পদের অভাব নেই। রয়েছে সম্পদের সুষ্ঠু ও ন্যায্য বণ্টনের অভাব। সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য ব্যাপক হারে বাড়ছে’-বলেন খলীকুজ্জামান।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভোজ্যতেল নিয়ে যারা কারসাজি করেছে তারা যত শক্তিশালী হোক তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। দৃশ্যমানভাবে কয়েকজনকে শাস্তি দিতে পারলেই অন্যরা বাজার সিন্ডিকেটসহ অন্যান্য অনিয়ম করতে ভয় পাবে।’

ড. খলীকুজ্জমান বলেন, ‘বিশ্বে দ্রুত ধনী হওয়ার হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। অথচ ধনীলোকদের মধ্যে কর প্রদানের প্রবণতা কম, ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। দেশে দরিদ্র লোকের সংখ্যা বাড়লেও সরকারের নীতি নির্ধারকরা এটি স্বীকার করছেন না। যে কোনো সমস্যা অস্বীকার করলে তার সমাধান সহজ হয় না।’

অনষ্ঠানে সভাপতি সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘টালমাটাল বিশ্ববাজার। যুদ্ধের প্রভাবে পণ্য বাজার উত্তাল। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। বাজারের উত্তাপ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখন টিসিবির ট্রাকের পেছনে ভিড় জমাচ্ছে। ট্রাকের পিছনে এ ধরনের দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে দুর্ভিক্ষের কোনো সিনেমার স্যুটিং হচ্ছে। দেশের জিডিপি বাড়লেও এর সুফল সর্বস্তরের মানুষ পাচ্ছে না।’

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, ‘ধনীরা ক্রমাগত ধনী হচ্ছে, গরিবরা ক্রমাগত আরও গরিব হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনজীবনে অসন্তোষ, আর্তনাদ, ক্ষোভ, সাধারণ মানুষের নীরব কান্না দেখা যাচ্ছে। কি কারণে দ্যব্যমূল্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর জন্য কি অসাধু ব্যবসায়ীরাই দায়ী নাকি বিশ্ব বাজার পরিস্থিতি বা সরকারের ভুল নীতি দায়ী তাই নিয়ে হচ্ছে আজকের এই ছায়া সংসদ।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশে বাজার ব্যবস্থা ভোক্তা বান্ধব নয়। দেশে ধান উৎপাদন ভালো হলেও চালের দাম কমছে না। মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমানার বাহিরে চলে যাচ্ছে। আয় বৈষম্য কমিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তৈরি করতে না পারলে বাজারে পণ্য থাকলেও মানুষ তা কিনতে পারবে না। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে ২ কোটি পরিবারকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা উচিত।’

ছায়া সংসদের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইসলামি ইউনিভার্সিটিকে হারিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক, ড. এস এম মোর্শেদ, কৃষিবিদ ফালগুনী মজুমদার ও সাংবাদিক রিয়াদ হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/০১এপ্রিল/বিএস/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত