খুলনা-৪: পুড়ে পুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৮
অ- অ+

খুলনার রূপসা, তেরখাদা আর দিঘলিয়া। এক দিকে ভৈরব নদের শান্ত স্রোত, আরেক দিকে রূপসা নদীর রুপালি ঢেউ। মাটির পলিতে জন্মায় সোনালি ধান, আর জলের বুকে মিশে আছে হাজারো জেলের জীবন-সংগ্রাম। প্রকৃতির এই শান্ত, স্নিগ্ধ রূপের আড়ালে এখন বইছে এক ভিন্ন স্রোত। এ স্রোত রাজনীতির, ক্ষমতার পালাবদলের। নদীর ঢেউয়ের মতোই মানুষের মনে আছড়ে পড়ছে নানা প্রশ্ন, কে হবেন তাদের আগামী দিনের কান্ডারি?

রূপসা, তেরখাদা আর দিঘলিয়া নিয়ে জাতীয় সংসদের আসন খুলনা-৪। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের মতো এখানকার রাজনৈতিক অঙ্গনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দেশের অন্যতম এক বড় দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। একসময়ের নির্বাচনী জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ।

আগামী নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নের বড় দাবিদার দলটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল বারী হেলাল। দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের একক ও সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি।

বিএনপির দুঃসময়ের এক পরীক্ষিত সৈনিক আজিজুল বারী হেলাল। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দিয়ে শুরু হয়েছিল তার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বের সিঁড়ি বেয়ে একসময় হয়েছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আজিজুল বারী হেলাল। একারণে তাকে বারবার ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। অগণিত রাজনৈতিক মামলার বোঝা নিয়ে হয়রান হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন বিভিন্ন সময়। এভাবেই তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছেন একজন 'পোড় খাওয়া নেতা', যিনি দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন।

রাজনীতিতে আজিজুল বারী হেলালের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যই তাকে খুলনা-৪ আসনের মানুষের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতে, তার তৃণমূলের সঙ্গে যে শক্ত অবস্থান রয়েছে, তা তাকে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে রেখেছে।

এই আসনে যদিও বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন আজিজুল বারী হেলাল, এরপরও দলের মনোনয়ন আশা করছেন আরো কয়েকজন। তাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ মল্লিক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও তিনি দলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সম্প্রতি নির্বাচনী এলাকায় এসে গণসংযোগ শুরু করেছেন। প্রচার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথা।

এছাড়াও, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা এবং আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তার কারণে তৃণমূলে তারও জনপ্রিয়তা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে খুলনা-৪ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও বেশ সক্রিয়। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নেমেছে। খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা কবিরুল ইসলামকে তারা প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় বেশ পরিচিত।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সাংগঠনিক সংযোগ এবং ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তার ভালো পরিচিতি রয়েছে।

তবে এই আসনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর খুব একটা ভোট নেই। এককভাবে নির্বাচন করে ১৯৯৬ সালে এই আসনে ১০ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৯১ সালে তারা এই আসনে কোনো প্রার্থীই দেয়নি। ইসলামী আন্দোলনের ভোট জামায়াতের চেয়েও কম। আগে এখানে সব সময় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ, তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধানও ছিল কম।

আগামী নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। তাই ভোটের মূল লড়াইটি হবে মূলত বিএনপিকে কেন্দ্র করে। ভোটের মাঠে এখন পর্যন্ত তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এখনো নির্বাচনের মাঠে নামেনি। এই আসনে জাতীয় পার্টিরও নিজস্ব বড় কোনো ভোটব্যাংক নেই। অবশ্য জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা একত্রিত হলে তারাই হয়ে উঠতে পারে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

রাজনৈতিক ও নির্বাচনী মাঠ- সব দিকেই এগিয়ে আছেন আজিজুল বারী হেলাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দেশব্যাপী পরিচিতি এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সম্পর্ক তাকে বড় সুবিধাজনক অবস্থান করে দিয়েছে। অন্য দলগুলোর প্রার্থীদের এমন সুবিধা হেলালের চেয়ে অনেকটাই কম। নিজের পক্ষে এমন ইতিবাচক সমীকরণ হেলালকে ভোটের মাঠে জনগণের আস্থার কতটা প্রতিফলন ঘটায় সেটিই দেখা যাবে আগামী দিনগুলেঅতে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ইতিমধ্যে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দুই মাস আগে অর্থাৎ আসছে ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল।

(ঢাকাটাইমস/২৯আগস্ট/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কর্মমুখী শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর, সংসদীয় সভায় ৭ মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত বাজেটের দাবি বিশেষজ্ঞদের
সীমান্তে অসুস্থ বিজিবি সদস্যকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর
বনাঞ্চল ধ্বংসের উদ্যোক্তা পরিবেশমন্ত্রী : আসিফ মাহমুদ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা