অনন্ত জলিল ব্যবসায়ে কীভাবে এত সফল? রহস্য জানালেন নিজেই

অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিলকে তো সারাদেশের মানুষই চেনেন। কিন্তু এই দুটি পরিচয়ের আগে তিনি যে দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর পড়া শেষ করে দেশে ফিরে ২০০১ সালে তিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘এজেআই গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজ’।
বর্তমানে ১২ হাজারের বেশি লোক কাজ করে অনন্ত জলিলের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। প্রতি বছর সেরা করদাতাদের তালিকায় তার নাম একেবারে উপরের দিকেই থাকে। কীভাবে এত সফল হলেন তিনি? শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা শপিংমলের স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘দিন- দ্য ডে’ সিনেমার সংবাদ সম্মেলনে সেই রহস্যই ফাঁস করলেন অনন্ত জলিল।
এই সিনেমা মুক্তির পর নানা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে বাজেট নিয়ে, অনন্ত-বর্ষার অভিনয় নিয়ে। অভিনেতার দাবি, নানা মহল থেকে ‘দিন- দ্য ডে’, তার স্ত্রী বর্ষা এবং তাকে নিয়ে সমালোচনার নামে পারসোনাল অ্যাটাক করে কথা বলা হচ্ছে। নানা রকম কটাক্ষ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নিজের ব্যবসায়িক সফলতার উদাহরণ টেনে আনেন অনন্ত জলিল।
তিনি বলেন, ‘আমাকে আন্ডারইস্টিমেট করা হচ্ছে। কিন্তু অনন্ত জলিল আন্ডারইস্টিমেট করার মতো মানুষ না। আমি আজকের এই অবস্থানে এসেছি নিজের পরিশ্রম আর মেধার জোরে। ২০০১ সালে আমি যখন বিজিনেস শুরু করি, তখন মাত্র ৪০০ লোক ছিল আমাদের কোম্পানিতে। তাও মিরপুরে ভাড়া বিল্ডিংয়ে। আমাদের নিজস্ব কোনো বিল্ডিং ছিল না।’
অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমি বিজিনেসে এসে হেমায়েতপুরে জায়গা কিনে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করি। ওখানে ৬৪ বিঘার উপরে আমাদের কোম্পানি। বর্তমানে সাড়ে ১২ হাজার লোক কাজ করে আমার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। আমি আট-নয় বারের সিআইপি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আমি এক্সপোর্ট কপি পেয়েছি।’
এর পরই তার সফলতার রহস্য জানান অভিনেতা-ব্যবসায়ী। বলেন, ‘এগুলো সম্ভব হয়েছে কারণ, আমি সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি। যখন যে যেটা বলেছে, আমি সেটাকে ফলো করার চেষ্টা করেছি। আমি জীবনে কখনো কোনো কাজে ইগো দেখাই নাই। আমাকে বায়াররা যা বলেছে, যে এই কাজগুলো করলে তোমার কোম্পানির উন্নতি হবে, আমি সেটা করার চেষ্টা।’
অনন্ত জানান, ‘আমি সবার কাছ থেকে শিখতে চাই। আমাকে যদি একজন ব্যাংকার বলেছে, আপনি এই কাজটা করলে আপনার জন্য ভালো হবে, আমি তাই করেছি। এছাড়া আমার ফ্রেন্ড সার্কেলসহ যারাই যখন ভালো বুদ্ধি দিয়েছে, সেটাকে আমি গুরুত্ব দিয়েছি, করার চেষ্টা করেছি। যার কারণে আমি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এত বড় ইন্ডাস্ট্রি করে ফেলেছি।’
সমালোচক ও কটাক্ষকারীদের উদ্দেশে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমাকে আন্ডারইস্টিমেট করার আগে আমার পর্যায়ে আসুন। অভিনেতার প্রশ্ন, ‘কী যোগ্যতা আছে আপনাদের আমাকে নিয়ে সমালোচনা করার? তিনি বলেন, ‘আমার সিনেমায়, আমার অভিনয়ে ভুল থাকতেই পারে। সেগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করুন, পরামর্শ দিন, সেগুলো সাদরে গ্রহণ করব। কিন্তু সমালোচনার নামে পারসোনাল অ্যাটাক বন্ধ করুন।’
এই ব্যবসায়ী অভিনেতা সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রচুর টাকা ব্যয় করেন। মিরপুর ১০, বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে তার তিনটি এতিমখানা আছে। এছাড়া সাভারের হেমায়েতপুরের ধল্লা গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘার উপর একটি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। করোনার মধ্যে তিনি বহু মানুষকে অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন। সম্প্রতি সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিতদের জন্যও দুই দফায় ৩০ লাখ টাকার অনুদান দেন।
অনন্ত জলিলের এসব সেবামূলক কাজ নিয়েও নানাজনে নানা কথা বলেন বলে তার দাবি। তিনি নাকি সিনেমার প্রচারের জন্য এসব করেন।
এ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমি যদি সিনেমার প্রচারের জন্য মানুষকে সাহায্য করে থাকি, তাহলে সারা বছর কেন করব। আমি ১০ টাকা ইনকাম করলে মানুষের কল্যাণে ৯ টাকা ব্যয় করি। যারা সমালোচনা করেন, তাদের পকেট থেকে তো এক পয়সাও বের হয় না। সমালোচনা খুব সহজেই করা যায়, কিন্তু কাজ করা কঠিন। তাই আমার সমালোচনা করতে চাইলে আগে আমার মত হয়ে দেখান।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিলের সঙ্গে তার স্ত্রী অভিনেত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষাও উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন সাংবাদিক মুন্নি সাহা। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দর্শকদের সঙ্গে নিজের অভিনীত ও প্রযোজিত ‘দিন- দ্য ডে’ দেখেন অনন্ত জলিল।
(ঢাকা টাইমস/২২ জুলাই/এএইচ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































