নিষিদ্ধ
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কড়া নজরদারি, শান্ত গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর অঞ্চল

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুন সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনার পর ঢাকা রেঞ্জজুড়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলায় সার্বক্ষণিক তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রেজাউল করিম মল্লিক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রেঞ্জের আওতাধীন জেলার পুলিশ সুপার, থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করেন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তাঁর তদারকির লক্ষ্য ছিল—প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হওয়া।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দিনভর মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জেলার পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়। বিশেষ করে গোপালগঞ্জকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্য নিয়েও নজরদারি চালানো হয়।
ঢাকা রেঞ্জের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি আজ ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে এমন আশঙ্কায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। তবে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে রেঞ্জের কোনো জেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার ও ওসিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ রাখা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার তথ্য পাওয়া যায়নি।”
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপালগঞ্জকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও পুরোনো বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ভিডিও পুরোনো। যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ভিডিওর ভিত্তিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ঢাকা রেঞ্জের অধীন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে রেজাউল করিম মল্লিকের সরাসরি তদারকি, দ্রুত সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো দিনভর সতর্ক অবস্থানে ছিল।
দিন শেষে পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, কড়া নজরদারি ও প্রস্তুতির কারণে ঢাকা রেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি বা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় থানা, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
পরবর্তীতে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতিতেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন তিনি। সেদিন পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভাঙ্গার সহিংসতা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো গোপালগঞ্জের সংকটকালেও রেজাউল করিম মল্লিকের সমন্বয়মূলক ভূমিকা এবং দ্রুত পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়ক হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































