ইউনাইটেড পরিচালকের মেয়ের বিয়ে, গেট নির্মাণ নিয়ে দুই শীর্ষ কর্তার লোকজনের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৫১| আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:১৮
অ- অ+

বিয়ের গেট নির্মাণ ও লাইটিং বসানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ কর্তার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মাদানি এভিনিউ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইউনাইটেড গ্রুপের অন্যতম পরিচালক ফরিদুর রহমান খানের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে গেট নির্মাণ ও লাইটিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় একই গ্রুপের আরেক মালিক হাসান মাহমুদ রাজার লোকজন এতে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হলেও পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বাড্ডা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং এলাকা পরিদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাড্ডা থানার পুলিশ জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।

এই হাসান মাহমুদ রাজা ও ফরিদুর রহমান খানের ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট, নিজেদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে পৃষ্ঠপোষকতা এমনকি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার আসামি- এমন বিস্তর কালিমা লেপটে আছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের এমন নানা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ইউনাইটেড গ্রুপের কর্তারা।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড গ্রুপের কর্ণধার হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও এমডি মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ ও গ্রুপের কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আফজালের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলা হয়। আন্দোলনের সময় ঢাকার প্রগতি সরণিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বাহাদুর হোসেন মনিরের বাবা আবু জাফরের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এই তিনজনও আসামি। তাদের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা আছে।

ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল মুবীন। তিনি সম্পর্কে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজার বেয়াই।

মুবীন পরে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান হন। আওয়ামী লীগ আমলে ইউনাইটেডের হয়ে বিভিন্ন তদবির নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরে বেড়াতেন। তার মাধ্যমেই নামমাত্র মূল্যে হাসিনা সরকারের কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনে গ্যাসভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে ইউনাইটেড। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাজারে বিক্রির অনুমতি না থাকলেও তা এখনো অব্যাহত আছে।

হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি ছাড়াও ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এরই মধ্যে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর গোয়েন্দা বিভাগের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে শিল্পগ্রুপটি। এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ে গ্রুপের কয়েকজন পরিচালক কর ফাঁকি দিয়েছেন ৪০ কোটি টাকা। তারা হলেন মঈনুদ্দিন হাসান রশিদ, হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম ও ফরিদুর রহমান খান।

অভিযোগ আছে, জুলাই আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকারকে টাকা দিয়ে সহায়তা করে ইউনাইটেড গ্রুপ।

(ঢাকাটাইমস/১৮ডিসেম্বর/এলএম/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজার: প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি
কসবা-আখাউড়াকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা কবীর আহমেদ ভূইয়ার
জিয়াউর রহমানকে স্মরণের সর্বোত্তম উপায় তাঁর আদর্শ অনুসরণ : ড. মঈন খান
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা