ব্রেন্ডান লিঞ্চের বাণিজ্য বৈঠক শুরু, আলোচনায় ‘আর্ট’ চুক্তি ও রাশিয়ার তেল

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ তিন দিনের সফরে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। তার এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (আর্ট) বাস্তবায়ন ও রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়।
সফরের প্রথম দিন সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য সচিব (চলতি দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন লিঞ্চ। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকারের বাধা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-এর সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সফরের শেষ দিনে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চারটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাই জানিয়েছেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আর্ট চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নে অগ্রগতি নিশ্চিত করা। এই চুক্তির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ সহজতর করা, বিনিয়োগ বাধা কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।
তবে আর্ট চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন’ এবং ‘জোরপূর্বক শ্রম’ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন শুনানির প্রেক্ষাপটে আলোচনার শুরুতেই কিছুটা চাপে থাকবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আমদানি নীতি আর্ট চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। আর্ট চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের লেনদেনে মার্কিন সম্মতির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটিতে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ। বাণিজ্য ভারসাম্যে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ঘাটতি কমাতে আর্ট চুক্তির মাধ্যমে নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।
(ঢাকাটাইমস/৫ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































