বিশ্ব বাবা দিবস আজ: ভালোবাসা, দায়িত্ব ও নির্ভরতার প্রতীক বাবার প্রতি শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫
অ- অ+

আজ ২১ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে বাবাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার এই দিবসটি পালিত হয়।

বাবা দিবসের সূচনা মূলত পশ্চিমা বিশ্বে হলেও বর্তমানে এটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধকে সম্মান জানাতেই এই দিবসের প্রচলন।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, বাবা দিবসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালে মাদার্স ডে’র আয়োজন দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, বাবাদের অবদানও একইভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। তার উদ্যোগের ফলেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এটি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবারা পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় নিজের আবেগ ও ইচ্ছাকে আড়ালে রাখেন। সন্তানের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গঠনে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের সাফল্যের পেছনে বাবার নীরব ত্যাগই প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।

বাবা পরিবারের চাবিকাঠি। বাবার উপর নির্ভর করে পরিবারের সন্তানের ভবিষ্যত। পরিবারের কাঠামো ও স্থিতিশীলতায় বাবাকে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। একজন বাবার আয় ও দায়িত্বশীলতা সরাসরি পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সামাজিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বাবার সৎ উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ যেমন বাসস্থান, যানবাহন ও আর্থিক সঞ্চয় পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজ করে তোলে। এর ফলে সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে তুলনামূলক কম কষ্ট হয় এবং তারা শিক্ষার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন বাবার নৈতিক দিকনির্দেশনাও সন্তানের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। দায়িত্বশীল পিতৃত্ব একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সমাজে বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশিত হয় না, কারণ তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেন। তবুও সন্তানের প্রতি তার নিরব স্নেহ ও নিরন্তর পরিশ্রম পরিবারের ভিত্তিকে দৃঢ় করে রাখে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও কর্মসূচির আয়োজন করেছে। পাশাপাশি অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ।

ব্যস্ত জীবনের মাঝেও বাবার প্রতি সামান্য সময়, একটি ফোনকল বা কৃতজ্ঞতার শব্দও তার জীবনে বড় আনন্দের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

একজন বাবা সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়—এমনটাই প্রতিফলিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবসের বার্তায়।

(ঢাকাটাইমস/২১ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শিশু হত্যার অভিযোগে ধানমন্ডিতে পাউবো প্রকৌশলী ও স্ত্রী গ্রেপ্তার
বিদেশি অস্ত্রসহ মোহাম্মদপুরে শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার
ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া-চীন সফর শুরু আজ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা