বিশ্বের যেকোনও দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:১২
অ- অ+

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে এসেছে— এমন খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র তাদের মজুত আছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র মজুত আছে।”

এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে আসে।

এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। ছবিগুলোতে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার দৃশ্য এবং ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি টার্মিনালে হামলার চিত্র দেখানো হয়েছে।

একটি ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজের ওপর ট্রাম্পকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে যুদ্ধবিমান থেকে খার্গ দ্বীপের স্থাপনায় বোমা হামলার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ছবিগুলোর সত্যতা বা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বোমা বি৬১-১৩ (B61-13) নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বোমার বিস্ফোরণক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২৪ গুণ বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই অস্ত্র উন্নয়নের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা, এবং রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ।

সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার পোস্টার রিভিউ-এ পেন্টাগন উল্লেখ করেছে, রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আধুনিকায়ন করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে প্রায় ৫ হাজার ৮৮৯টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৫ হাজার ২২৪টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এত বড় অস্ত্রভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্তকে বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২৭ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
‘বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে’
ভাড়াটে খুনির টার্গেট ছিলেন একজন, গুলিতে প্রাণ যায় যুবদল কর্মীর, গ্রেপ্তার ৭
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট
ঢাকায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা