ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিত্রবাহিনীর স্মরণে নির্মিত মৈত্রীস্তম্ভের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৩
অ- অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ‘মৈত্রীস্তম্ভে’। নির্মাণের দুই বছর পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এটি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউড়া এলাকায় ৩ দশমিক ৬১ একর জমিতে নির্মিত এই ‘মৈত্রীস্তম্ভ’। ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৭ সালে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। কয়েক দফা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। দীর্ঘ দুই বছর এটি উন্মুক্ত করাসহ উদ্বোধন করা হয়নি।

অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের ধুলাবালু এবং আশপাশের চাতালকলের কালো ধোঁয়া ও তুষ এই স্মৃতিস্তম্ভের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় বড় বাঁধা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ উদ্বোধনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৭ সালে আশুগঞ্জে ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সময়ও নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে ৭২ কোটি টাকায় ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। পরে জেলা গণপূর্ত বিভাগ এটি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে এটি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মী এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। শেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। তখন ক্ষমতায় অন্তর্বর্তী সরকার। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। তারপর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সৈন্যরাও যোগ দিয়েছিলেন। যুদ্ধে সীমান্ত জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬৬১ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবেশের দুটি ফটক, ভেতরে ঢুকতই চোখে পড়ে পশ্চিমাংশে দেয়ালে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খোদাই করা চিত্র। সেখানে লেখা-‘আমার কাঁধেই নিলাম তুলে তোমার যত বোঝা, তুমি আমার বাতাস থেকে মুছো তোমার ধুলো, তুমি বাংলা ছাড়ো।’ পাশেই খোদাই করা লেখা রয়েছে-‘দৈনিক পাকিস্তান বাংলা এবারের মুক্তির সংগ্রাম জয় বাংলা’ ও ‘এ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’। দেয়ালে দেয়ালে একাত্তরের সেই রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতি, যুদ্ধের বিভীষিকা, স্বজন হারানোর বেদনা, দেশ ছাড়ার অসহায়ত্ব আর বিজয়ের মুহূর্তের ইতিহাস অত্যন্ত সুন্দরভাবে খোদাই করা হয়েছে।

বেলা ১২টার দিকে ফিতা কেটে মৈত্রীস্তম্ভের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত দোয়ার আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে ও আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউস সারোয়ার।

(ঢাকাটাইমস/১৩আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মিষ্টি বিতরণ
প্রাথমিক শিক্ষায় কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়াতে কার্যক্রম শুরু করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
ঝালকাঠি ও রাজশাহী জেলায় নতুন পুলিশ সুপার
জনগণের হক মেরে খেতে বিরোধীদলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: গোলাম পারোয়ার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা