ঢাকায় প্রায় ৩ হাজার পীর-মাশায়েখের সম্মেলনে সুফিপন্থীদের ঐক্যের ডাক

রাজধানীতে প্রায় তিন হাজার পীর-মাশায়েখ ও সুফি অনুসারীদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে ‘বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার ঢাকার অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, পাকিস্তান, ভারত, ইরান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন দরবার, খানকা ও সুফি তরিকার পীর-মাশায়েখরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সুফিপন্থীদের ঐক্যের আহ্বান
সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ইমাম কুদরত এ খোদা সুফিপন্থীদের পারস্পরিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনো একটি দরবার সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
কুদরত এ খোদা বলেন, ‘পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।’
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই।
দেওয়ানবাগ শরীফকে নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগেরও জবাব দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি দরবারে এসে কার্যক্রম দেখার আহ্বান জানিয়ে কুদরত এ খোদা বলেন, ‘দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোনো কার্যক্রম চলে না।’
পীর-মাশায়েখ ও তরিকাপন্থীদের এই সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘তরিকাপন্থীরা একত্রিত হয়েছে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবেসে।’
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বিভাজন অতিক্রম করে পীর-মাশায়েখ ও সুফি অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আনার উদ্যোগের জন্য তাঁরা ইমাম কুদরত এ খোদাকে ধন্যবাদ জানান।
ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী রা’দ ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন পালনের বিরোধিতা করেন, তাঁদের অনেকেই নিজেদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করেন।
ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন দরবারের পীর-মাশায়েখরাও সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি ও কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তারা সুফিবাদের শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







