মুরাদনগরের ইউএনও বদলিতে মিষ্টি বিতরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম সারোয়ার রাব্বীকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ সময় মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ বি এম সারোয়ার রাব্বী প্রায় পাঁচ মাস মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেও তিনি আলোচনায় ছিলেন বলে তাঁদের দাবি।
তবে তাঁর বদলির খবরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের একটি অংশ মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোনো কর্মকর্তার বদলির পর কোনো পক্ষের এমন উচ্ছ্বাসের কারণ কী। তাঁদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি যদি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, তাহলে বদলির কারণ ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
এদিকে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় ইউএনও এ বি এম সারোয়ার রাব্বীর বদলির কারণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর বদলির নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রভাবিত না হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ, সুশাসন ও কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







