প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ড. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে ভারত সফর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
শনিবার সকালে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। পারস্পরিক স্বার্থ ও আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।’ সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
‘মক্কা চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বর্তমানে অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানে যাবে।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বোয়িং কিনতেই হবে এমন কোনো চাপ নেই। দেশের চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বোয়িং কেনা হবে।’
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একটি সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হবে।’
সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে জায়গা না পাওয়া এবং রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নির্দিষ্ট ঘটনা ও উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি ‘সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি’ করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে তা বোঝা যাবে। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
এসময় উপস্থিত, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মন্নান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







