মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ, ৩০০ ফুট নিচে নামানো সেই পাইলট বরখাস্ত

মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ডকে বরখাস্ত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। শুক্রবার তাৎক্ষণিকভাবে তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ভারতীয় বিমান সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ফ্লাইটটির পাইলট-ইন-কমান্ডের শরীরে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় এয়ার ইন্ডিয়ার ওই পাইলটের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণের পর দুই পাইলটেরই মাদক পরীক্ষা করা হয়। কো-পাইলটের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও পাইলট-ইন-কমান্ডের নমুনা প্রথম পরীক্ষায় নন-নেগেটিভ আসে। পরবর্তী নিশ্চিতকরণ রক্ত পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া যায়।
তবে মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে ফ্লাইটটির অস্বাভাবিক উচ্চতা পরিবর্তনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ওই ফ্লাইটে ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। বিমানটি প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। এ সময় পরপর তিনটি হাইড্রলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যায়। অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য স্টল সতর্কবার্তাও সক্রিয় হয়।
ঘটনার সময় বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে যায়। পরে আবার নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে ২৯২ ফুট নিচে নেমে আসে। একপর্যায়ে কো-পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে হাইড্রলিক ব্যবস্থাগুলো স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
অস্বাভাবিকভাবে উচ্চতা পরিবর্তনের সময় বিমানে সিটবেল্টের সংকেত বন্ধ থাকায় কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হন। দিল্লিতে অবতরণের পর ২০ যাত্রী ও চার কেবিন ক্রুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর বিমানের কেবিনের ছাদের প্যানেল, হাতল, ওভারহেড বিনের দরজাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে ফ্লাইটের রেকর্ডার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাসংক্রান্ত নথি এবং হাইড্রলিক ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছে এএআইবি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির অস্বাভাবিক উচ্চতা পরিবর্তনের কারণ এবং পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
(ঢাকাটাইমস/৫ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







